ইরান পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হয়ে উঠুক সৌদি আরব এটা চায় না বলে জানিয়েছেন বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ। ইরানকে পরমাণু অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে বিরত রাখার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে সৌদি সমর্থন করে বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আগে রেকর্ড করা এক ভিডিও ভাষণে এ কথা বলেন সালমান। গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ কথা জানা গেছে। খবর রয়টার্সের।

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি পুনর্বহালের লক্ষ্যে বিশ্বনেতারা তেহরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়ার মধ্যে নিজ দেশের এমন মনোভাবের কথা তুলে ধরলেন বাদশাহ সালমান।

তিনি বলেন, সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যকে গণবিধ্বংসী অস্ত্রমুক্ত রাখার ওপর জোর দেয়, এই ভিত্তিতে আমরা ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রধারী হওয়া ঠেকানোর আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করি।

মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃস্থানীয় শিয়া ও সুন্নি মুসলিম শক্তি ইরান ও সৌদি আরব বহু বছর ধরে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে আছে। দেশ দুটি ইয়েমেন, সিরিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের লড়াইয়ে নিজেদের মিত্রদের সমর্থনের মাধ্যমে ছায়াযুদ্ধে জড়িয়ে আছে। তারা ২০১৬ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলেও উত্তেজনা হ্রাসের লক্ষ্যে চলতি বছর নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করেছে।

দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে টানাপোড়েন আরও তীব্র হয় ২০১৯ সালে। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে সৌদি তেলক্ষেত্রে এক হামলায় দেশটির তেলের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে যায়। রিয়াদ ওই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করলেও তেহরান প্রথম থেকেই তা অস্বীকার করে আসছে।

বাদশাহ সালমান বলেন, ইরান আমাদের প্রতিবেশী দেশ, আর আমরা আশা করছি সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার মধ্য দিয়ে আমাদের প্রাথমিক আলোচনা বিশ্বাস নির্মাণের দৃঢ় ফলাফলের দিকে এগিয়ে যাবে।

তার এসব মন্তব্যের আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নেওয়ার পথ খুলতে পারমাণবিক আলোচনা ফের শুরু করার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদে অধিবেশন চলাকালে সৌদি আরব ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদ্বয় সাক্ষাৎ করেন বলে ইরানের আধাস্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা মেহর জানিয়েছে।