তালেবান শাসকরা প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফায়ও অপরাধের বিরুদ্ধে নির্মম শাস্তি ফিরিয়ে আনতে চলেছে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত প্রথম আমলে হত্যাকাণ্ডের শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড। অপরাধীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হতো। চুরি বা অন্যান্য কম মাত্রার অপরাধে হাত-পা কেটে দেয়া হতো। 

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তালেবান নেতা মোল্লা নুরউদ্দিন তুরাবি জানিয়েছেন, তারা আবারও সে ধরনের শাস্তি ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছে। দেশের নিরাপত্তার জন্য এধরনের শাস্তিদান জরুরি বলে তিনি মনে করেন। খবর বিবিসির।

তালেবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠা হিসেবে পরিচিত মোল্লা নুরউদ্দিন তুরাবি প্রথম আমলে দেশের আইনমন্ত্রী ছিলেন। তবে এই আমলে সে দায়িত্ব তাকে দেয়া হবে কিনা সেটা এখনো স্থির হয়নি। সে আমলে কারাগারেরও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন তিনি। ইসলামি আইনগুলো ঠিকমতো প্রয়োগ করা হচ্ছে সেদিকে দৃষ্টি রাখতেন তিনি। এখনও আগের সে দায়িত্ব না পেলেও আগ বাড়িয়ে তালেবানের নতুন নীতি কী হতে পারে, সে নিয়ে কিছু বিবৃতি দিয়েছেন তিনি। 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কোন দেশে কে কী শাস্তি পাচ্ছে, তা নিয়ে আমরা কথা বলতে যাই না। সুতরাং আমাদের দেশে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে, সেটা আমরা ঠিক করব। তাতে কে কী বলল, কিছু আসে যায় না।

বৃহস্পতিবার এপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমরা আমাদের আইন তৈরি করব। ইসলামকে আর কোরআনের ওপর ভিত্তি করেই তা তৈরি করা হবে।

চলতি বছরের গত মাসে কাবুলের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করে তালেবান। তারা গতবারের তুলনায় এবার ‘উদারতান্ত্রিক’ হবে বলে ঘোষণা দিলেও ক্ষমতাদখলের একমাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে তাদের সে পুরনো রূপই ফুটে উঠতে শুরু করেছে।