তালেবানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়টি বর্তমানে বিবেচনায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লেভরভ। আফগানিস্তানে মানবাধিকার নিশ্চিতের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চলমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ কথা বলেন লেভরভ।

এদিকে আফগানিস্তানে শরিয়াহ আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে তালেবানের সাম্প্রতিক বক্তৃতা-বিবৃতির বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অপরাধের অভিযোগে অঙ্গ কর্তন ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধান মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে জানিয়েছে দেশটি। খবর রয়টার্স, এএফপি ও এএনআইর।

নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেভরভ বলেন, 'বর্তমান পর্যায়ে তালেবানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রশ্নটি বিবেচনায় নেই। এর আগে মানবাধিকার রক্ষার ব্যাপারে তারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলো আগে পূরণ করে দেখাতে হবে। এটিই এখন সর্বাগ্রে আলোচনার বিষয়।'

জাতিসংঘের মতো বিশ্বমঞ্চ থেকে স্বীকৃতি পেতে তালেবান সরকারের প্রচেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এর মধ্যে ২০ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইচ্ছাও প্রকাশ করেছে তালেবান। তবে মোড়ল দেশগুলো এই সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছে। কারণ, জাতিসংঘে তালেবানের প্রতিনিধিকে বক্তব্য পেশ করতে দেওয়ার অর্থ হলো, তাদের শাসনকে স্বীকৃতি দেওয়া। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে কে বা কারা যোগ দিতে পারবে, তা নির্ধারণ করে সংস্থার ৯ সদস্যের ক্রিডেনশিয়াল কমিটি। এই কমিটির সদস্য রাশিয়া।

জাতিসংঘকে দেওয়া এক চিঠিতে তালেবান জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আফগান সরকার কর্তৃক জাতিসংঘে নিযুক্ত দেশটির স্থায়ী প্রতিনিধি গোলাম ইসাকজাইকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি এখন আর আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তার বদলে তালেবানের অন্যতম মুখপাত্র সুহাইল শাহিনকে জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে তালেবান।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেছেন, আফগানিস্তানে শরিয়াহ আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে তালেবানের সাম্প্রতিক বক্তৃতা-বিবৃতি এবং এই আইনের মধ্যে অপরাধের অভিযোগে অঙ্গ কর্তন ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধান মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি বলেন, 'আমরা কেবল তালেবানের বক্তব্য-বিবৃতিই পর্যবেক্ষণ করছি না, আফগানিস্তানে তাদের কর্মকাণ্ডও লক্ষ্য করছি। আফগানিস্তানে মানবাধিকার নিশ্চিত করতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করছি।'