করোনা মহামারির কারণ দেখিয়ে হাজারো ভারতীয়কে চীনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে শি জিনপিং সরকার। চীনের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে নয়াদিল্লি। এ সিদ্ধান্তকে 'অবৈজ্ঞানিক' বলে কটাক্ষ করা হয়েছে।

চীনে ২৩ হাজারের বেশি ভারতীয় শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই সেখানে ডাক্তারি পড়তে যান। এ ছাড়া কয়েকশ ভারতীয় ব্যবসায়ীও পরিবার নিয়ে সেখানে থাকেন। ২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তারা দেশে ফিরেছিলেন। তারপর থেকে ভারতের সঙ্গে বিমান পরিষেবা বন্ধ করে দেয় চীন। ভারতীয়দের ভিসা দেওয়াও বন্ধ করেছে দেশটি। খবর পিটিআইর।

এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার চীন সরকারের সঙ্গে কথা বলেন সেখানে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিক্রম মিসরি। তিনি বলেন, দেড় বছরের বেশি সময় ধরে ভারতীয়দের চীনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। এ সময় এ ধরনের সিদ্ধান্ত অবৈজ্ঞানিক। এ সিদ্ধান্তের ফলে হাজারো শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ী সেখানে যেতে পারছেন না। মানবিকতার খাতিরে চীনের এ সিদ্ধান্ত বদলানো উচিত।

বিক্রম আরও জানান, মহামারি পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর ভারতও বিদেশি নাগরিকদের ভিসা দিয়েছে। চীন থেকেও ব্যবসায়ীদের ভারতে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। চীনেরও উচিত সেই পথে চলা। চলতি মাসে বিদেশি নাগরিকদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, তারা এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি বেইজিং।

এদিকে চীনের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ এনেছে তাইওয়ান। এর আগে তাইওয়ানের বিমানবাহিনীর নির্ধারিত অঞ্চলে অবৈধভাবে ২৪টি যুদ্ধবিমান পাঠায় বেইজিং। যা তাইপে ও বেইজিংয়ের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মধ্যে গত দুই বছরে তৃতীয় বৃহত্তম অনুপ্রবেশ।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে তাইওয়ানের বিমানবাহিনীর নির্ধারিত অঞ্চলে অনুপ্রবেশ করেছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির যুদ্ধবিমান। এর মধ্যে ছিল বোম্বারস, যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন প্রতিরোধকারী বিমান এবং মানুষবিহীন বিমান। একটি গ্রুপে ছিল ১৯টি এবং অন্যটিতে পাঁচটি বিমান।