ভারতে কৃষক আন্দোলনের আবহে এবার কলকাতায় সেজে উঠেছে দেবী দুর্গার মণ্ডপ। সেই সজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে পায়ের ছাপ। কৃষকদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মণ্ডপ সজ্জায় জুতা-স্যান্ডেলের প্রতিকৃতিও ব্যবহার করা হয়েছে। অবশ্য এ নিয়ে বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার মণ্ডপ কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে আইনি নোটিশ।

তেভাগা আন্দোলন থেকে তেলেঙ্গানা আধিয়ার, ফকির বিদ্রোহ থেকে তিতুমীরের বাঁশেরকেল্লা; ভবানী পাঠক থেকে দেবী চৌধুরানী, অহল্যাদেবী থেকে ইরাদেবী এবং সবশেষে লখিমপুর খেরিতে শাসকের বিরুদ্ধে ঝড় তোলা আন্দোলনের নাম ব্যবহার করা হয়েছে পূজামণ্ডপের সজ্জায়।

এর আগে এমন ঘটনা দেখা যায়নি। তবে এ বছর এসব লড়াইয়ের গল্পই দুর্গাপূজার থিম হয়ে উঠেছে। কৃষক আন্দোলনকে উৎসর্গ করে মণ্ডপের বাইরে প্রবেশপথে একটি কাঠামো তৈরি করেছে ভারতচক্র। বিরাট পদচিহ্নের মাঝে অসংখ্য মুখ এঁকে গড়া হয়েছে সেই কাঠামো, যার আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে জীর্ণ, ছেঁড়া অসংখ্য জুতা-স্যান্ডেল।

লখিমপুরের মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষাপটেই মণ্ডপে দেয়াল লিখন হয়েছে। লেখা হয়েছে- 'মোটরগাড়ি ওড়ায় ধুলো, পিষে মরে চাষিগুলো', যা বাস্তবে শাসকদের চেহারাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। এই থিম বাংলার সীমানা পেরিয়ে পুরো ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে। কিষান মোর্চার সদস্যরাও আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন এ থিম। মণ্ডপ সজ্জায় দেখা গেছে লখিমপুর খেরিতে কৃষকদের ওপর গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনার দৃশ্যায়নও।

ঐতিহাসিক থিম ফুটিয়ে তুলতে আনুষঙ্গিক উপাদানও ব্যবহার করা হয়েছে মণ্ডপসজ্জায়। তবে এতে আপত্তি জানিয়েছেন পৃথ্বিবিজয় দাস নামে আইনজীবী। তার অভিযোগ, এই মণ্ডপসজ্জায় জুতা-স্যান্ডেল ব্যবহার করে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে। সেই কারণে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন দমদম পার্ক ভারতচক্র পূজা উদযাপন কমিটিকে।

শারদীয় দুর্গোৎসবে কৃষক আন্দোলনের আবহকে ব্যবহার করায় আপত্তি জানিয়েছে বিজেপিও। গেরুয়া শিবিরের নেতাদের প্রশ্ন- কেন জুতা দিয়ে দেবী দুর্গার মণ্ডপ সাজানো হয়েছে? টুইটে প্রতিবাদ জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

এ নিয়ে পূজার উদ্যোক্তা প্রতীক চৌধুরী বলেছেন, ‘নোটিশ পেয়েছি। আইনি নোটিশের জবাব আইনি পথেই দেওয়া হবে। এখন পূজা নিয়েই মাথা ঘামাচ্ছি। তারপর ভাবব। পায়ের চিহ্ন দিয়ে আমরা শাসকের ক্ষমতা দেখাতে চেয়েছি। কারও ভাবাবেগে আঘাত করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়।’