অনলাইনে খোঁজখবর নিয়ে সাপ কিনে সেই সাপ দিয়ে কামড়ে স্ত্রীকে হত্যার মামলায় এক ব্যক্তিকে দুইবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে ভারতের একটি আদালত।

সোমবার কেরালা রাজ্যের আদালত এই রায় ঘোষণা করে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

স্ত্রীকে গোখরার ছোবলে খুন করার মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডের পাশাপাশি সুরজ নামের ওই যুবককে পাঁচ লাখ রুপি জরিমানাও করা হয়েছে।

২০২০ সালের মার্চে সাপের কামড়ে মারা যান সুরজের স্ত্রী উথরা (২৫)। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুরজ যৌতুকের দাবি করেছিলেন বলে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে অভিযোগ করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গোখরা এবং বোড়া সাপ কীভাবে পাওয়া যায় তা নিয়ে অনেক দিন অনলাইনে খোঁজ করেছিলেন সুরজ। শুধু তাই নয়, কীভাবে গোখরার বিষ বের করা হয় সেই ভিডিও কয়েকবার দেখেছিলেন তিনি।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, অনেক খোঁজাখুঁজির পর সুরেশ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ হয় কেরালার বাসিন্দা সুরজের। ১০ এবং ৭ হাজার টাকার বিনিময়ে সুরেশের কাছ থেকে দু’টি সাপ কেনেন তিনি।

উথরা যখন বাবার বাড়িতে ছিলেন সে সময়ই তাকে সাপের ছোবলে খুন করা হয়। ২০২০ সালের ৭ মে বাবার বাড়িতেই সাপের কামড়ে ম়ৃত্যু হয় তার। উথরার পরিবারের অভিযোগ ছিল, মেয়েকে সাপের ছোবলে খুন করেছে সুরজ।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাচক্রে ওই ঘর থেকেই গোখরা উদ্ধার হয়। এর আগেও মার্চে শ্বশুরবাড়িতে উথরাকে সাপে কামড়েছিল। তখন তার পরিবার অভিযোগ তুলেছিল খুন করতেই সাপের ছোবল খাইয়েছিলেন সুরজ। 

কেরালার পুলিশ সুপার হরিশঙ্কর জানান, প্রথমে ওই ঘটনাকে স্বাভাবিক সাপের কামড় বলে চালাতে চেয়েছিলেন সুরজ। তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত।

আদালতে আইনজীবী এই মামলাকে ‘বিরলের চেয়েও বিরল’ আখ্যা দিয়ে আসামির মৃত্যুদণ্ড কামনা করেন। আদালত মামলাটি ‘বিরল’ মন্তব্য আসামিকে দুইবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন।

এর আগে রাজস্থানেও এমনই একটি মামলা প্রকাশ্যে আসে। ২০১৯ সালে রাজস্থানের ঝুনঝুনু জেলার ওই ঘটনায় এক নারী সাপের সাহায্যে তার শাশুড়িকে খুন করান বলে অভিযোগ। জানা যায়, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক জানতে পারার কারণেই পুত্রবধূ তার প্রেমিকের সাহায্যে শাশুড়িকে হত্যা করেছিলেন।