ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নওকি বলেছেন, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে তা বোঝা কঠিন। তবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে 'প্রত্যাবাসন' সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের ওপর জোরালো আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখা উচিত। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ডিক্যাব আয়োজিত 'ডিক্যাব টকে' অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফেরত নিতে মিয়ানমারের প্রতি চাপ অব্যাহত রাখবে জাপান। ভাসানচরে মানবিক সহযোগিতার কাজে জাতিসংঘের সম্পৃক্ত হওয়াকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শর্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেও তিনি মত দেন।

ইতো নওকি আরও বলেন, বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আরও বেশি আকর্ষণের জন্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় উদার নীতি এবং কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। ডিক্যাব টকে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন ডিক্যাব সভাপতি পান্থ রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক একেএম মুইনুদ্দিন।

বাংলাদেশে জাপানের সরাসরি বিনিয়োগ বৃদ্ধি-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি খুবই উৎসাহব্যঞ্জক। যেভাবে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে তার বিবেচনায় বলা যায়, আগামী পাঁচ বছর পর বাংলাদেশের চিত্র বদলে যাবে। তবে বাংলাদেশে আরও বেশি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ নীতি আরও উদার করতে হবে। এজন্য কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী নভেম্বরে কোভ্যাক্সের আওতায় বাংলাদেশে আরও টিকা পাঠাবে জাপান। এর আগে গত জুলাই ও আগস্ট মাসে জাপান থেকে বাংলাদেশে অপফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩০ লাখ ডোজ টিকা পাঠানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত ইতো নওকি আরও বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জাপান নানাভাবে সহায়তা দিচ্ছে। এর আগে ২০১৬ সালে গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার পর জাপান সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে।