আগামী সপ্তাহে রাশিয়ায় তালেবানের মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত। বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মস্কোয় অনুষ্ঠিতব্য ওই বিশেষ বৈঠকে তালেবান ও ভারতের প্রতিনিধিরা থাকবেন। বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য রাশিয়া ভারতকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। ভারত সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে মস্কোয় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি হবে তালেবানের সঙ্গে ভারতের দ্বিতীয় বৈঠক। খবর এনডিটিভি, রয়টার্স ও এএফপির।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেছেন, ২০ অক্টোবর মস্কোর বৈঠকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ ছিল। আমরা অংশগ্রহণ করব। যুগ্ম সচিব স্তরের কোনো কর্মকর্তাকে মস্কোয় পাঠানো হবে। যদিও এ ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই কাশ্মীরে সন্ত্রাস নিয়ে সতর্ক অবস্থানে আছে ভারত। দেশটির ভারতীয় দূতাবাসের কর্মীদেরও দেশে ফিরিয়ে এনেছে নয়াদিল্লি।

রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে মস্কোতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও পাকিস্তান তালেবানের সঙ্গে বৈঠকে বসবে। এর আগেও তালেবানের সঙ্গে আফগানিস্তান সংক্রান্ত বৈঠক ডেকেছিল রাশিয়া। তবে সেই বৈঠকে পাকিস্তান, আমেরিকা উপস্থিত থাকলেও ভারতের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না। ওই ঘটনায় ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নও উঠেছিল। আগামী বুধবারের বৈঠকে ভারতকে আমন্ত্রণ তাই রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

এদিকে আফগানিস্তানের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (পিআইএ)। বৃহস্পতিবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। পিআইএর দাবি, দেশটিতে ফ্লাইট চালু রাখতে গিয়ে তালেবান সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপের মুখে পড়ছে তারা।

আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে যাওয়ার পর বিদেশি বিমানসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শুধু পিআইএই রাজধানী কাবুলের সঙ্গে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করে। নতুনভাবে ফ্লাইট চালুর পর টিকিট উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছিল। তালেবানের ক্ষমতা দখলের আগের সময়ের চেয়ে বর্তমানের টিকিটের মূল্যে বিস্তর পার্থক্য দেখা দেয়। এসবের জের ধরে টিকিটের দাম কমানোর নির্দেশ দেয় তালেবান সরকার। তাদের চাপের মুখেই এবার ফ্লাইট স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিল পিআইএ।