যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বর্তমানে যে অবকাশ যাপন ভবনে সময় কাটাচ্ছেন, সেটির সঙ্গে বেনামে অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান অফশোর কোম্পানির সংযোগ রয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত প্যান্ডোরা পেপারসের নথি বিশ্লেষণ করে এ তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য গার্ডিয়ান।

চলতি সপ্তাহে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্বেলা এস্টেট নামে যে বিলাসবহুল হলিডে ভিলায় অবস্থান করছেন, সেখানে দুটি সুইমিং পুল, অর্গানিক খামার ও ব্যক্তিগত বনভূমি রয়েছে। এই বিলাসবহুল বাসভবনটির মালিক প্রধানমন্ত্রী জনসন সরকারের পরিবেশমন্ত্রী জ্যাক গোল্ডস্মিথ। গত সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো প্যান্ডোরা পেপারস প্রকাশের পর দেখা যায়, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী নেতা ও ব্যবসায়ীরা অন্য দেশে বেনামে বা অফশোর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার লেনদেন করেছেন, বিনিয়োগ করেছেন এবং গচ্ছিত রেখেছেন। তালিকায় এই মন্ত্রীসহ কয়েকজন ব্রিটিশ রাজনীতিবিদের নাম ছিল।

প্যান্ডোরা পেপারসের নথিতে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের পরিবেশমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা তুর্কি ও কাইকস দ্বীপে মালটিজ কোম্পানিতে সম্পদ কিনেছেন। এ ছাড়া সুইজারল্যান্ডভিত্তিক একটি সম্পদ পরিকল্পনা কোম্পানিতেও তাদের মালিকানা রয়েছে। বিভিন্ন স্তরভিত্তিক ট্যাপ হ্যাভেন হিসেবে পরিচিত এসব অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে ওই সব লেনদেন করা হয়েছে। যা নিয়ে রীতিমতো বিরোধীদের তোপের মুখে পড়েন জনসন। তবে সে সময়ে তার ঘনিষ্ঠদের অবৈধ লেনদেনের তথ্য অস্বীকার করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

৬০০ হেক্টর আয়তনের এই বাগানবাড়ি সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেননি জ্যাক গোল্ডস্মিথ। তবে তার মুখপাত্র এ অভিযোগ অস্বীকারও করেননি।

গোল্ডস্মিথ ওই বিলাসবহুল এস্টেটে নিজের শেয়ারের কথা স্বীকার করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি কোনো অন্যায় করেননি। কারণ যুক্তরাজ্যে অফশোর কোম্পানিতে লেনদেন বৈধ। তবে প্রশ্ন উঠেছে, তিনি দায়িত্বশীল পদে থেকে এমনটা করতে পারেন কিনা, এটা নিয়ে। আবার গোপন সম্পত্তির মালিকানাধীন কোম্পানির ব্যবস্থাপনার এমন একটি বাসভবনে ছুটি কাটাচ্ছেন জনসন, যার কারণে অফশোর সম্পত্তির মালিকানায় স্বচ্ছতা আনতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত সংস্কার অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।