সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা বাছাই করা নিয়ে কয়েক বছর ধরে দলটির ভেতরে দ্বন্দ্ব ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে ভরাডুবির পর সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ান রাহুল গান্ধী। প্রশ্ন ওঠে-গান্ধী পরিবারের দিন কি শেষ? পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী অন্তর্বর্তী সভাপতির দায়িত্ব নেন। কথা ছিল-একজন যোগ্য সভাপতি খুঁজে তার ওপর দায়িত্ব দেওয়া। তা নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনার পর অবশেষে শনিবার কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সভা ডাকা হয়। সেই সভার শুরুতেই সোনিয়া গান্ধী ঘোষণা করেন, আমিই দলের পূর্ণকালীন সভাপতি।

কংগ্রেসে সংস্কারের দাবিতে কয়েক বছর ধরে সক্রিয় রয়েছেন দলটির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। গণমাধ্যম তাদের নাম দিয়েছে 'গ্রুপ ২৩'। শনিবারের সভায় সোনিয়া এই গ্রুপকে টার্গেট করেই বক্তব্য দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, 'আমিই দলের ফুলটাইম সভাপতি। কংগ্রেসকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলার জন্য আত্মনিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা, ঐক্য ও দলের স্বার্থকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।' খবর এনডিটিভির। 

কংগ্রেসের আগামী সভাপতি নির্বাচন নিয়ে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। বৈঠকের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে একজন পূর্ণকালীন সভাপতি পেতে পারে দল। সেই সভাপতি কে হবেন- তা নিয়ে শনিবার কথা শুরু হয়ে গেছে।
বৈঠক সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, পরবর্তী সভাপতি হিসেবে রাহুল গান্ধীর নাম আলোচনায় এলে সভার সবাই তাতে সমর্থন করেন।
সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও লোকসভা স্পিকার মিরা কুমার জানিয়েছেন, বৈঠকে পরবর্তী সভাপতির নাম প্রস্তাব করতে বলা হলে সবাই তার (রাহুল গান্ধী) কথা বলেছেন। আম্বিকা সোনি ও কেসি ভেনুগোপাল বলেছেন, দলীয়প্রধান হিসেবে সবাই রাহুল গান্ধীকে চান। পাঞ্জাব, রাজস্থান, ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী একে অ্যান্টনিও বলেছেন, সর্বসম্মতভাবে রাহুল গান্ধীকে সভাপতি করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো- রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের হাল ধরবেন কিনা? বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, রাহুল বলেছেন, তিনি বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবেন। সভায় সোনিয়া গান্ধী বলেন, সাংগঠনিক নির্বাচনের জন্য একটি নতুন তারিখ শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সেই তারিখ হতে পারে আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে।