সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথমে নারী পরিচয়ে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়। রিকোয়েস্ট গ্রহণ করার পর হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার আদান-প্রদান, চ্যাটে অশ্লীল কাজে প্রলুব্দ করা, ভিডিও রেকর্ড করে অর্থ না দিলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া- এমনই এক ‘যৌন ফাঁদ’ পেতে অর্থ আদায় করছিল ভারতের রাজস্থানের ভরতপুর জেলার একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

দিল্লি পুলিশের সাইবার সেল বলেছে, সম্প্রতি তারা ওই প্রতারক চক্রের এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন। এছাড়া আরও তিন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেছেন। এই চক্রটি ভরতপুর থেকে তাদের এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। খবর এনডিটিভির

এই রকম প্রতারণার অন্তত ৯টি অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে সাইবার সেলের পুলিশ কর্মকর্তা কে পি এস বলেন, অভিযোগকারীরা প্রথমে ফেসবুকে একটি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পান। গ্রহণ করলে রিকোয়েস্ট পাঠানো ব্যক্তি অভিযোগকারীর হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার চান। তারপর হোয়াটসঅ্যাপে অশ্লীল ভিডিও পাঠানো হয়, যেটাতে অভিযোগকারীর চেহারা বিকৃত করে যুক্ত থাকে। টাকা না দিলে ওই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় প্রতারকরা। এক অভিযোগকারী এই পর্যন্ত এক লাখ ৯৬ হাজার রুপি দিয়েছেন বলে অভিযোগে জানান।   

পুলিশ জানায়, মোবাইল ফোন নাম্বারটি আসাম থেকে ইস্যু করা হয়েছে। কিন্তু ব্যবহার করা হচ্ছিল রাজস্থানের ভরতপুর জেলা থেকে। বিস্তারিত তদন্ত করে পুলিশ উদঘাটন করে, একটি চক্র ভরতপুরে অবস্থান করে প্রতারণার মাধ্যমে ফাঁদ পেতে মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করছিল। পুলিশ এক অভিযোগকারী যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠান সেই অ্যাকাউন্ট সূত্র ধরে চক্রটির নাগাল পায়। পরে হাকিমুদ্দিন (২৩) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে এবং আরও তিনজনকে শনাক্ত করে।  

ভরতপুর ভিত্তিক এই প্রতারক চক্রের ফাঁদের ব্যাপারে পুলিশ জানায়, প্রতারকরা নারীর ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়। একবার যদি রিকোয়েস্ট গ্রহণ করা হয় তবে তারা ওই ব্যক্তির সঙ্গে ইনবক্সে কথোপকথন চালিয়ে যায়। এক পর্যায়ে তারা ভিডিও কলে অশ্লীল কাজ করতে প্রলুব্ধ করে। তারা সেটার ভিডিও ধারণ করে এবং অর্থ না দিলে ওই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। মানুষকে অপরিচিত কারও ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ না করতে এবং এই ফাঁদ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো কারণে কেউ এই ফাঁদে পড়ে গেলে পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে।