জাপানজুড়ে চলছে বিশাল সামরিক মহড়া। দেশটির ৩০ বছরের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা প্রথম। ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনার পারদ বেড়ে চলার মধ্যে যে কোনো সংঘাত মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাপানের সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র। খবর সিএনএনের।

জাপানের স্থলবাহিনী গ্রাউন্ড সেলফ ডিফেন্স ফোর্স (জিএসডিএফ) এই মহড়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। এ বিষয়ে সিএনএনের এক বিশ্নেষণে বলা হয়েছে, জাপানে সশস্ত্র বাহিনীর মহড়ায় অংশ নিয়েছে প্রায় এক লাখ সেনাসদস্য, ২০ হাজার সাঁজোয়া যান ও ১২০টি উড়োজাহাজ।

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জাপানে সামরিক মহড়া চলছে। জিএসডিএফের মুখপাত্র কর্নেল নোরিকো ইয়োকোতা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর নানা দক্ষতা বাড়ানোর দিকেই নজর দেওয়া হচ্ছে। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে তারা যেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সাড়া দিতে পারে, এ লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে সেনাদের।

কয়েক বছর ধরে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে সাবমেরিন থেকে নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপান সাগরে গিয়ে পড়ে।

জাপানের দক্ষিণে তাইওয়ান ইস্যুতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা সীমায় দফায় দফায় যুদ্ধবিমানের মহড়া চালাচ্ছে চীন। এসবের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, চীন হামলা চালালে তাইওয়ানকে রক্ষা করবে যুক্তরাষ্ট্র।

সব মিলিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এ মুহূর্তে জাপানকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সবচেয়ে অবনতির মধ্যে রয়েছে বলে মনে করছেন জিএসডিএফ কর্মকর্তারা। এমন সংকটের মধ্যে জিএসডিএফের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইউচি তোগাশি।

সিএনএনের খবরে বলা হয়, প্রতিরক্ষামূলক মহড়া চালাতে জাপানের আশিকাওয়া ও হোক্কাইডো থেকে জিএসডিএফের সেনারা দুই হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ওইতা প্রিফেকচারের (প্রদেশ) হিজুদাই এলাকায় রয়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে সেখানে পৌঁছানোর পর তারা নানা সামরিক স্থাপনা নির্মাণ করেন। জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপগুলোতে যুদ্ধ বাধলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে এবং সেখানে যেভাবে তা মোকাবিলা করা হবে, সেই একই কায়দায় মহড়া চালানো হচ্ছে হিজুদাই এলাকায়।