সুদানে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ একাধিক মন্ত্রীকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। সোমবার দেশটির সার্বভৌম কাউন্সিল ও অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিয়ে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। এর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে হাজারো মানুষ। এরই মধ্যে আইন অমান্য করে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন বিরোধীরা। সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে বেসামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ, আরব লীগ, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা। খবর আলজাজিরা, এএফপি ও বিবিসির।

সুদানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সুদানের প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হামদাক অভ্যুত্থানের সমর্থনে বিবৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে বন্দি করে অজ্ঞাত স্থানে নেওয়া হয়েছে। এরপরই অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন সামরিক নেতা জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল বুরহান।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর এর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছে হাজারো মানুষ। রাজধানী খার্তুমে সামরিক সদর দপ্তরের কাছে তারা গুলির মুখে পড়েছে। দেশটির চিকিৎসকদের একটি কমিটি ফেসবুকে অন্তত ১২ জন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল বুরহান আগে থেকেই সুদানের সার্বভৌম কাউন্সিলের প্রধান ছিলেন। সামরিক ও বেসামরিক নেতাদের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির যৌথ কাউন্সিল এটি। তিনি দেশের ক্ষমতা দখলের জন্য রাজনৈতিক কোন্দলকে দায়ী করে অভ্যুত্থান ঘটিয়েছেন। টিভিতে এক ভাষণে তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের মধ্যে কোন্দল, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সহিংসতায় উস্কানির কারণে আমাকে বাধ্য হয়ে দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।

বুরহান আরও বলেন, সুদান এখনও আন্তর্জাতিক সব চুক্তি এবং বেসামরিক শাসনে ফিরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে নির্বাচনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই তা করা হবে।

তবে এর প্রতিবাদে রাস্তায় রাস্তায় ইতোমধ্যে 'সামরিক শাসন চাই না' আওয়াজ উঠেছে। আলজাজিরা বলছে, খার্তুমের রাস্তায় হাজারো মানুষ নেমে এসেছে। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, 'বেসামরিক সরকার ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা রাস্তা ছাড়ব না।'

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, খার্তুমজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে। শহরজুড়ে সেনা ও আধাসামরিক সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। খার্তুম বিমানবন্দর বন্ধ করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে।

সুদানের বিরোধীদলীয় কোয়ালিশন আইন অমান্য করে আন্দোলন এবং দেশব্যাপী প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে। রাজবন্দিদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে তারা।

সুদানে সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়। দেশটির প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যদের তাৎক্ষণিক মুক্তির দাবি জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, 'সুদানে সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা জানাই। জাতিসংঘ সুদানের জনগণের পাশে আছে।'

এক বিবৃতিতে নিন্দা জানিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল বলেন, 'এটা অবশ্যই জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। সুদানে যে কোনো রক্তপাত ও সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হবে।'

সুদান এবং দক্ষিণ সুদানে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের বিশেষ দূত অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, আরব লীগও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে। পাশাপাশি রাজবন্দিদের মুক্তি ও সামরিক অপতৎপরতার অবসান দাবি করেছে তারা।

সুদানের দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে ২০১৯ সালে সরিয়ে দেওয়ার পর সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তি হয়। এর মধ্য দিয়ে গত দুই বছর ধরে পরিচালিত হয়ে আসছিল পূর্ব আফ্রিকার এ দেশটি। এরই মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গতকাল অভ্যুত্থান ঘটায় সামরিক নেতৃত্ব।