কুমার বিশ্বজিৎ। নন্দিত কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক। সম্প্রতি বাংলা ঢোল থেকে প্রকাশিত হয়েছে তার গাওয়া 'ঢাকা ড্রিম' ছবির 'হে ঢাকা' গানটি। এই গান, বর্তমান ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে-

'ঢাকা ড্রিম' ছবির 'হে ঢাকা' গানটি কিছুটা ভিন্নধাঁচের। এই গান নিয়ে কী অনেক নিরীক্ষা চালানো হয়েছে?

'ঢাকা ড্রিম' ছবির গান তৈরি এবং সংগীতায়োজনে নিরীক্ষা চালানোর যথেষ্ট সুযোগ ছিল এবং তা কাজে লাগানো হয়েছে। কারণ নির্মাতা প্রসূন রহমানের কাজের ধরন অনেকের চেয়ে কিছুটা হলেও আলাদা। ছবির পাশাপাশি গানেও ভিন্নতা তুলে ধরতে চান তিনি। এমনিতেও সিনেমার গান তৈরি হয় গল্পের বাঁকবদল এবং চরিত্রের নানা ঘটনা নিয়ে। আর গল্পে যখন নতুন কিছু থাকে, তখন গানের বিষয়েও আলাদা করে দেখানোর সুযোগ পান শিল্পী ও সংগীত পরিচালকরা। আমি এবং সংগীতায়োজক রেজাউল করিম লিমন সেই সুযোগ পেয়েছি।

সিনেমায় কী এখন নিয়মিত প্লেব্যাক করছেন?

প্লেব্যাকের বিষয়ে আমাকে নিয়মিত বা অনিয়মিত কোনোটাই বলা যাবে না। আমার কাছে যখন যে কাজ মানসম্পন্ন, নিরীক্ষাধর্মী কিংবা সময়োপযোগী মনে হয়, সেটাই করি। সিনেমায় একের পর এক যদি ভালো কাজের সুযোগ আসে, তাহলে নিয়মিতই প্লেব্যাকে দেখতে পাবেন। এর মধ্যে 'ঢাকা ড্রিম' ছবির পাশাপাশি এসএ হক অলীকের 'গলুই', অরুণ চৌধুরীর 'জ্বলে জ্বলে তারা'য় গান গেয়েছি। এই কাজগুলো পরপর হয়েছে। আবার দেখা যদি এমন হয়, অনেক দিন ভালো কাজের সুযোগ হয়নি, তাহলে প্লেব্যাকে একটা বিরতি দেখতে পাবেন। এই সিদ্ধান্ত শুধু ভালো কিছু কাজের জন্য।


অনেক দিন স্টেজ শো করেননি। সেই সময়টা নতুন কোনো গান তৈরিতেই কি ব্যস্ত ছিলেন?

ঘরে বসে গান তৈরি করা ছাড়া আর তো কিছু করার ছিল না। তাই নিজের পাশাপাশি তরুণ শিল্পীদের জন্য নতুন কিছু গান তৈরি করেছি।

নতুনদের জন্য গান তৈরির ভাবনা কী আগেও ছিল?

তরুণদের জন্য কিছু করার চেষ্টা সবসময়ই ছিল। আগেও তাদের নানাভাবে উৎসাহ এবং ভালো কিছু করার দিকনির্দেশনা দিয়েছি। এবার সুরকার হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। তরুণ শিল্পীদের মধ্যে অনেকেই সম্ভাবনাময়। তেমনই কয়েকজনের গানের সুর করেছি, যা করার পর নিজেও আনন্দ পেয়েছি।

শুনলাম, নতুন গানের পাশাপাশি পুরোনো জনপ্রিয় গানগুলো নতুন করে রেকর্ড করবেন?

অনেক দিন থেকেই ভাবছি, পুরোনো গানগুলো নতুন সংগীতায়োজনে প্রকাশ করা যায় কিনা। যে গানগুলো এ প্রজন্মের অনেকে শোনার সুযোগ পায়নি, তেমনই কিছু বাছাই করেছি, যা কিছু গান অন্যান্য সংগীতায়োজককে দিয়েছি মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্টের জন্য। কিছু গানের সংগীতায়োজন নিজে করব। এরপর সেগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করার পরিকল্পনা আছে।

অনেক দিন ঘরবন্দি থাকার পর বাইরে বের হওয়া শুরু করেছেন। এখন কি স্টেজেও আপনাকে দেখা যাবে?

হ্যাঁ, এ মাস থেকে নিয়মিত স্টেজ শো করব। করোনার জন্য অনেক দিন ঘর ছেড়ে বের হয়নি। তাই স্টেজ শোর কোনো পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু যেদিন প্রথম ঘর ছেড়ে বের হলাম, সেদিনই মনে হয়েছে, এবার গানের মঞ্চেও পা রাখা যায়।

কণ্ঠশিল্পী ও মিউজিশিয়ানদের সংগঠনগুলোর পক্ষে নতুন কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন?

আমরা সরকারের কাছে ১৮ দফা দাবি পেশ করেছি। আশা করছি, একটু দেরিতে হলেও আমাদের অনেক দাবি পূরণ হবে। সে লক্ষ্যেই সংগঠনগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দাবি পূরণ হলে সংগীত ভুবনের অনেকের মেধা, শ্রম ও সৃষ্টির সঠিক মূল্যায়ন হবে। সৃষ্টিশীল কাজের সঙ্গে জড়িত মানুষদের জন্য এই মূল্যায়ন অনেক জরুরি।