মাদকের বিভিন্ন রুটের বিষয়ে ভারতকে তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে সমুদ্রপথে মাদক পাচারের বিষয়ে প্রতিবেশী দেশটির মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ভারতের নারকোটিপ কন্ট্রোল ব্যুরোর মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে অনুষ্ঠিত সপ্তম দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৮ টা থেকে বিকাল পৌনে ৩ টা পর্যন্ত অনলাইনে ডিজি পর্যায়ের এই বৈঠক হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ-ভারতে অবৈধ মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা সংস্থার দুই মহাপরিচালক ছাড়াও এতে সংশ্নিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। এতে উভয় পক্ষই সমুদ্রপথকে ব্যবহার করে মাদকের চোরাচালান এবং মাদক সন্ত্রাসীদের উদ্ভাবিত নতুন নতুন রুট সম্পর্কিত তথ্য বিনিময় করা হয়। এ ছাড়া দুই দেশের রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক নীতিমালা ও বিধি-বিধান নিয়ে তথ্য বিনিময় করা হয়।

বাংলাদেশের মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর ডিজি পর্যায়ের বৈঠক হয় বুধবার

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান অফিসে ওই বৈঠকের পর সংস্থাটির মহাপরিচালক সাংবাদিকদের বলেন, 'ভারতের সঙ্গে মাদক পাচারের নতুন নতুন রুট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা তাদের কিছু তথ্য দিয়েছি। তারাও কিছু তথ্য দিয়েছে।'

তিনি বলেন, দুই দেশের দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় উভয় দেশ আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব বহন করে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অবৈধ মাদকের চোরাচালান ঠেকাতে দুই দেশই ভূমিকা রাখবে।

মহাপরিচালক বলেন, ইয়াবা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ভারতের কিছু অঞ্চল দিয়ে যে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচার হয়-সেটিও ভারতের নারকোটিপ কন্ট্রোল ব্যুরোকে অবহিত করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মাদক পাচারে সমুদ্রপথ ব্যবহার হচ্ছে উল্লেখ করে আব্দুস সবুর মন্ডল বলেন, স্থলপথে কড়াকড়ি হওয়ায় সমুদ্র পথে ইয়াবা পাচার বেড়েছে। ইয়াবার তুলনায় আইস (ক্রিস্টাল মেথ) আরও বেশি তীব্র আকার ধারণ করেছে। এসব বিষয়ে দুই দেশই গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেছে। উভয় দেশেই তা বন্ধে তৎপর রয়েছে।

তিনি বলেন, বিগত কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় সম্মেলনে ভারতকে তাদের সীমান্ত এলাকায় ফেনসিডিলের কারখানার তালিকা দেওয়া হয়েছিল। ভারত সেগুলো ধ্বংস করেছে বলে আমাদের অবহিত করেছে।

মিয়ানমার থেকে সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াবার সঙ্গে আইস নামের মাদক পাচার হয়ে আসার বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা করে মাদক সমস্যা সমাধানে অগ্রসর হতে হবে। গত ডিসেম্বরে দেশটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ওই সময়ে তাদের বিষয়গুলো অবহিত করা হয়। তবে তারা যদি ব্যবস্থা নিতো তাহলে হয়তো এভাবে পাচার হওয়া সম্ভব হতো না।