তাইওয়ানের জাতিসংঘের সদস্য হওয়ার কোনো অধিকার নেই বলে জোর দিয়ে বলেছে চীন। যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে তাইওয়ানকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানোর পর এ প্রতিক্রিয়া জানাল বেইজিং। তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বিরোধিতা লেগেই রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ প্রতিক্রিয়া দেখাল দেশটি। এদিকে চীনের টেলিকম খাতের অন্যতম বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান চায়না টেলিকমের লাইসেন্স বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর বিবিসি ও এনডিটিভির।

যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় বেইজিংয়ের তাইওয়ান বিষয়ক কার্যালয়ের মুখপাত্র মা জিয়াওগুয়াং বলেন, জাতিসংঘে যোগ দেওয়ার কোনো অধিকার তাইওয়ানের নেই। জাতিসংঘ সার্বভৌম রাষ্ট্রের সরকারগুলোর সংস্থা, তাইওয়ান চীনের অংশ বলেন তিনি।

চীনের জাতিসংঘের সদস্য পদ পাওয়ার ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেছেন, বিশ্বমঞ্চ থেকে তাইওয়ান ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় তিনি ব্যথিত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অভূতপূর্ব সংখ্যক জটিল এবং বৈশ্বিক ইস্যুর মুখোমুখি হতে থাকায় এসব সমস্যা নিরসনে সব অংশীদারের অংশগ্রহণ জরুরি। এসব সমস্যার মধ্যে তাইওয়ানে বসবাসকারী ২ কোটি ৪০ লাখ মানুষও রয়েছে। তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ ব্যবস্থায় তাইওয়ানের অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়, এটি বাস্তব ইস্যু।

তবে গণতান্ত্রিক তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে মনে করে চীন। তারা এখনও তাইওয়ানের সঙ্গে পুনরায় একত্রিত হতে চায়। প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে হলেও।

এদিকে চায়না টেলিকমের লাইসেন্স বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে চীনা টেলিকম প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন (এফসিসি) স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এফসিসির কর্মকর্তারা মনে করছেন, চীনের সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন এই টেলিকম প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রবেশ, তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও অপব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। যা দেশেটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।