ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

কংগ্রেসের পরাজয়, জনগণের নয়: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বিধানসভা‌‌‌য় বিজেপির জয়

নির্বাচনী কৌশলে হেরেছে কংগ্রেস! 

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দোপাধ্যায়

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১৯:২৩ | আপডেট: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১৯:৩৫

কংগ্রেস ও বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মিত্ররা বিধানসভার ভোটে তিনটি রাজ্যের অনেক আসনে আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। এটি কংগ্রেসের পরাজয়ের বড় কারণ বলে মনে করছেন জোটের শরিকরা। তারা বলছেন, এতে নিজেদের ভোট ভাগাভাগি হয়েছে যা লাভবান করেছে বিজেপিকে। কংগ্রেসের এই পরাজয় বিরোধী জোটে বিভেদের পথও তৈরি করে দিয়েছে। এই ফলাফলে কংগ্রেসের সঙ্গে অন্যান্য দলগুলোর দূরত্ব বাড়তে পারে যার প্রভাব পড়তে পারে ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে। এরই মধ্যে কংগ্রেস আগামী বুধবার ইন্ডিয়া জোটের পরবর্তী বৈঠক ডেকেছে। সেই মিটিংয়ের আগে প্রধান বিরোধী এ দলটি অনেকটাই ব্যাকফুটে। খবর-এনডিটিভি

‘ইন্ডিয়া’ জোটের মিত্ররা ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রধান বিরোধী দলগুলোর নিজস্ব ভোটে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। এটি ভোটের ফলাফল বিভাজনের দিকে নিয়ে গেছে যা বিজেপিকে জেতাতে ভূমিকা রেখেছে। 

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেছেন, ইন্ডিয়া জোটের শরিক অন্যান্য দলের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির ব্যবস্থা না থাকার কারণে কংগ্রেস নির্বাচনে হেরেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি ‘জনগণের নয়, কংগ্রেসের পরাজয়’। 

বিধানসভায় ৪ রাজ্যের তিনটিতে বিজেপি, একটিতে কংগ্রেস জয় পেয়েছে। মধ্যপ্রদেশে ক্ষমতা ধরে রাখার পাশাপাশি কংগ্রেসের কাছ থেকে রাজস্থান ও ছত্তিশগড়ের শাসনক্ষমতা হাতে পেয়েছে বিজেপি। 

এ বিষয়ে বিধানসভায় এক ভাষণে মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘কংগ্রেস তেলেঙ্গানা রাজ্যে জিতেছে। তারা মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও রাজস্থানেও জিতত। কিছু ভোট ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে ভাগাভাগি হয়েছে এটাই সত্য। আসন ভাগাভাগি ব্যবস্থার পরামর্শ দিয়েছিলাম আমরা। শরিকদের মধ্যে ভোটের ভাগাভাগির কারণে কংগ্রেস হেরেছে।

তিনি বলেন, ‘মতাদর্শের পাশাপাশি কৌশলও থাকা দরকার। যদি আসন ভাগাভাগি ব্যবস্থা থাকে তবে ২০২৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে না।’

ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের উদ্দেশে মমতা বলেন, আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনের আগে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং ভুলগুলো সংশোধন করতে হবে। আমরা ভুল থেকে শিক্ষা নেব।

সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদবও কংগ্রেসের পরাজয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি আগেই পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, আঞ্চলিক দলগুলোর যেখানে নিয়ন্ত্রণ আছে সেখানে অবশ্যই তাদের বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে হবে। 

কংগ্রেস মিজোরামে ৪০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র একটিতে জয়লাভ করতে পেরেছে। আর মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস অখিলেশ যাদবের দলের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিল, কিন্তু আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা ভেস্তে যায়। একপর্যায়ে কংগ্রেসের প্রচারে নেতৃত্বে থাকা কমল নাথ জোটের আলোচনার বিষয়ে এক প্রশ্নে সাংবাদিকেদের বলেছিলেন, ‘চোরো অখিলেশ ভাখিলেশ’।

এই মন্তব্য আসন ভাগাভাগিতে দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়। সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র মনোজ যাদব কাকা বলেন, ‘অখিলেশ যাদবকে নিয়ে কমলনাথে অপমানজনক শব্দ কংগ্রেসের পরাজয়ের কারণ। সেই অসম্মানজনক মন্তব্যের কারণে কংগ্রেস হেরেছে।’

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অখিলেশ যাদব সোমবার বলেছেন, ‘এটি একটি দীর্ঘ লড়াই। বিজেপির মতো দলকে পরাজিত করার জন্য আমাদের অনেক প্রস্তুতি নিতে হবে। শৃঙ্খলার সঙ্গে তাদের কৌশলগুলোর সঙ্গে আমাদের লড়াই করতে হবে।’

তিনি বলেন, ইন্ডিয়া জোটে যেখানে আমরা শুরু করেছি সেখানে ফিরে যেতে হবে। আমরা এই বিন্দুতে শুরু করেছিলাম যে আমাদের দলগুলোকে সমর্থন করতে হবে যে অঞ্চলে তারা শক্তিশালী সেখানে তাদের নেতৃত্ব দিতে হবে। ২০২৪ সালের নির্বাচন ঐতিহাসিক হবে। পরিবর্তন আসবে। যেহেতু প্রবণতাগুলো কংগ্রেসের পরাজয়ের দিকে ইঙ্গিত করে, মিত্ররা প্রধান বিরোধী দলের একত্রে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা শুরু করেছে।

জনতা দল-ইউনাইটেড-এর কেসি তিয়াগি বলেন, কংগ্রেস অন্যান্য শরিক দলকে উপেক্ষা করেছে। কিন্তু তাতে নিজের জয় আনতে পারেনি। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী, সিপিএম নেতা পিনারাই বিজয়ন বলেছেন, হিন্দুত্ববাদী বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় একসঙ্গে লড়াই করা দরকার ছিল।

শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) নেতা সঞ্জয় রাউত বলেছেন, মধ্যপ্রদেশে নির্বাচনের ফলাফল অন্যরকম হতো যদি কংগ্রেস ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের সঙ্গে কিছু আসন ভাগ করে নিত।

শরিক জোটের একজন সিনিয়র নেতা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে জোটের কোনো বৈঠক হয়নি। কংগ্রেস দেখাও করতে চায়নি। সম্ভবত তারা আরও বেশি দর কষাকষির ক্ষমতা পাওয়ার জন্য এ ফলাফলের অপেক্ষা করছিল। কিন্তু এই ফলাফলে কংগ্রেসের সঙ্গে অন্যান্য দলগুলোর দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে কংগ্রেস আগামী বুধবার ইন্ডিয়া জোটের পরবর্তী বৈঠক ডেকেছে। মমতা বন্দোপাধ্যায় সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন বৈঠকে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কম।
 

আরও পড়ুন

×