জাতিসংঘের কপ ২৬ জলবায়ু সম্মেলন থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বন উজাড় প্রতিরোধ ও বন্ধের বিষয়ে বিশ্বের শতাধিক নেতা একমত হয়েছেন। তারা এই বিষয়ে মঙ্গলবার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করবেন।   কপ ২৬ সম্মেলন থেকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এখন পর্যন্ত এটাই বড় কোনো পদক্ষেপ হবে।  

অ্যামাজন বনের বিশাল অংশ উজারকারী ব্রাজিলও এই চুক্তিকে স্বাক্ষর করবে। এ ছাড়া বনভূমি ধরে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি সাহায্য মিলিয়ে ১৯.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি তহবিলও এই চুক্তির আওতায় গঠন করা হবে। খবর বিবিসি অনলাইনের।  

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহব্যাপী এই জলবায়ু সম্মেলনকে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। এই চুক্তিকে কানাডা, ব্রাজিল, রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোও স্বাক্ষর করতে সম্মত হয়েছে। পৃথিবীর মোট বনের প্রায় ৮৫ শতাংশ এসব দেশে রয়েছে। 

এই চুক্তির অংশ হিসেবে বন উজার বন্ধে বিশ্বের ২৮টি দেশের সরকার কৃষিপণ্য পাম তেল, সয়া ও কোকোয়ার মতো খাদ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য থামানোরও প্রতিশ্রুতি দেবে। আর বিশ্বের ৩০টিরও বেশি বৃহৎ কোম্পানি বন উজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন ব্যবসায় বিনোয়োগ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেবে। 

বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। পাশাপাশি তারা এই বলে সতর্কও করেছেন যে, ২০১৪ সালের চুক্তি ব্যর্থ হয়েছে এবং প্রকৃতপক্ষে বন উজারের গতি থামাতে পারেনি। প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন প্রয়োজন বলে তাগিদ দিয়েছেন তারা। গাছ কাটা জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। কারণ গাছ উষ্ণতা সৃষ্টিকারী কার্বন ডাউ অক্সাইড গ্যাস শোষণ করে। 

এছাড়া গঠিত তহবিলের অর্থ উন্নয়নশীল দেশের ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি উদ্ধার, দাবানল মোকাবিলা ও আদিবাসী সম্প্রদায়কে সহায়তায় ব্যবহার করা হবে।