মাগুরার হাজীপুরের যুবক মাহমুদুল হাসান ফয়সালের ১০টি গিনেস রেকর্ডের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফ্রি স্টাইলিং ফুটবলে মাত্র তিন বছরে তিনি এসব বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন।

শনিবার জেলার হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ মাঠে এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। 

এদিন বিকেল ৪টায় শহীদ মিনার পাদদেশে কেক কেটে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ফয়সাল ও তার ভক্তরা। এ সময় তিনি ফুটবলের মাধ্যমে ১০টি ফ্রি স্টাইল দেখিয়ে ভক্ত ও দর্শকদের আনন্দ দেন।

ফয়সাল জানান, একটি ফুটবল প্রতি ৩০ সেকেন্ডে গোটা কপালজুড়ে টানা ৪৬ বার ঘুরিয়ে সম্প্রতি দশমবারের মতো গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, এই রেকর্ডের সঙ্গে প্রতি ৩০ সেকেন্ডে দুই বাহুর বন্ধনে ৭৭ বার ফুটবল ঘুরিয়ে পেয়েছেন আরও একটি গিনেস স্বীকৃতি, যা তার নবম গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস স্বীকৃতি। এই দুটি কার্যক্রমের ভিডিও ফুটেজ গত জুলাই মাসে পাঠানো হয়েছিল। তা যাচাই করে একসঙ্গে অর্জিত এই দুই স্বীকৃতি প্রাপ্তির কথা গত ৩০ অক্টোবর তাকে ই-মেইলের মাধ্যমে জানায় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের শেষ দিকে এক মিনিটে দুই বাহুর বন্ধনে ১৩৪ বার ফুটবল ঘুরিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখান। পরে টানা দু'বার প্রতি ৩০ সেকেন্ডে দুই বাহুর বন্ধনে ৬২ বার ফুটবল ঘুরিয়ে দুটি রেকর্ড গড়েন। এরপর প্রতি ৩০ সেকেন্ড দুই বাহুর বন্ধনে যথাক্রমে ৬৮ ও ৬৬ বার ফুটবল ঘুরিয়ে আরও দুটি রেকর্ড গড়েন। ২০১৯ সালে একটি বাস্কেটবল এক মিনিটে ৩৪ বার ঘাড় দিয়ে ওপরে ছুড়ে আবার তা ঘাড় দিয়ে গ্রহণ করে তিনি বিশ্বে রেকর্ড গড়েন। এ ছাড়া একই বছরের শুরুর দিকে এক মিনিটে দুই হাতের মধ্যে ১৪৪ বার বাস্কেটবল ঘুরিয়ে তিনি বিশ্ব রেকর্ড গড়েন। পরে ২০২০ সালে প্রতি এক মিনিটে একটি ফুটবল টানা ৬৬ বার ঘাড় দিয়ে ওপরে ছুড়ে আবার তা ঘাড় দিয়ে গ্রহণ করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি অর্জন করেন। তার লক্ষ্য অন্তত ২৫টি বিশ্ব রেকর্ড গড়া।

মাগুরা সদর উপজেলার হাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সোহেল রানা ও মনজুয়ারা দম্পতির একমাত্র ছেলে ১৯ বছর বয়সী ফয়সাল। দুই ভাইবোনের মধ্যে ফয়সাল ছোট। তার বাবা বর্তমানে রাজধানীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ফয়সাল মাগুরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মেকাট্রনিপ বিভাগের পঞ্চম বর্ষের ছাত্র। তার ইচ্ছা, ভবিষ্যতে আরও নতুন নতুন বিশ্ব রের্কড গড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্রি স্টাইলার ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের পতাকা বিশ্বের দরবারে আরও উঁচুতে তুলে ধরা। এ জন্য তিনি কঠোর অনুশীলন করছেন।

মাগুরা ইয়াংস্টার ফুটবল একাডেমির পরিচালক সৈয়দ বারিক আঞ্জাম বারকি বলেন, ফয়সাল একাই ১০টি বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। তিনি এই এলাকার মানুষের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। এ অর্জন একই সঙ্গে তার ও দেশের। তাকে আরও এগিয়ে নিতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসিন কবির বলেন, ফয়সালের এই প্রতিভা গৌরবের। তার দক্ষতা আরও বাড়াতে এবং অগ্রসর হতে প্রয়োজনে তাকে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে সহযোগিতা করা হবে।