যুদ্ধে জর্জরিত ইয়েমেনে ২০৩০ সাল নাগাদ ১৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ।

মঙ্গলবার জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা ৩ লাখ ৭৭ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে ৭০ শতাংশই ৫ বছরের কম বয়সী শিশু হতে পারে। ৬০ শতাংশের মৃত্যু ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসের কারণে হতে পারে। সম্মুখযুদ্ধ ও বিমান হামলার কারণেও অনেকের মৃত্যু হতে পারে। 

সব মিলিয়ে ২০৩০ সালে মৃত্যুর সংখ্যা ১৩ লাখে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। 

এ বিষয়ে ইউএনডিপির কর্মকর্তা আচিম স্টেইনার বলেন, ইয়েমেনে যুদ্ধের ময়দানের তুলনায় যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট রোগ-ক্ষুধায় বেশি মানুষের মৃত্যুর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা যুদ্ধ ক্ষেত্রে মৃত্যুর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী সানা দখলে নেয় দেশটির ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীরা। হুথির ক্ষমতা দখলের পর থেকেই হাদির অনুগত সেনাবাহিনীর একাংশ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। হাদির পক্ষ হয়ে হুথির বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

যুদ্ধের ফলে ইয়েমেন ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ইতোমধ্যে কয়েক লাখ মানুষ মারা গেছেন। দেশটির দেড় কোটিরও বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছেন। দেশটির পরিস্থিতিকে জাতিসংঘ বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছে। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে অপুষ্টিতে ভুগবে দেশটির ৯২ লাখ মানুষ এবং চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখে পৌঁছাবে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশ।

প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে, বছরের পর বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ অবিলম্বে শেষ হলে ইয়েমেনে চরম দারিদ্র্য এক প্রজন্মের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে।

ইউএনডিপির নতুন প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছে, বিবদমানপক্ষগুলো যদি ২০২২ সালের জানুয়ারির মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তিতে পৌঁছাতে পারে তবে ইয়েমেনিরা ২০৪৭ সালের মধ্যে দারিদ্র্য দূর করতে পারবে।