করোনাভাইরাসের নতুন ধরন 'ওমিক্রন' শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়া ভ্রমণে কড়াকড়িও আরোপ করেছে কিছু দেশ।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা, বসতোয়ানা, ইসরায়েল ও হংকংয়ে করোনার নতুন ধরনটি শনাক্ত হয়েছে। বেলজিয়ামেও একজনের শরীরে 'ওমিক্রন'-এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি দেশের ওপর ফ্লাইট চলাচলে জরুরিভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা এনেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো। একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যও।

এদিকে, যেসব দেশ তাড়াহুড়া করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তাদের 'ঝুঁকি যাচাই ভিত্তিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে' পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

ইউরোপিয়ান কমিশন প্রধান আরসালা ফর ডার লেয়েন বলেছেন, 'দ্রুততার সঙ্গে এবং একত্রিতভাবে পুরো ইউরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।'

ইউরোপিয়ান কমিশনের মুখপাত্র এরিক মেমার জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান জরুরি এক বৈঠক শেষে নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্তে পৌঁছান। বেলজিয়ামে করোনার নতুন ধরনে আক্রান্ত এক রোগী শনাক্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেন তারা।

জাপানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার থেকে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল থেকে জাপানে আসা অধিকাংশ দেশের নাগরিকদের ১০ দিন কোয়ারেন্টিন করতে হবে এবং এই সময়ের মধ্যে তাদের মোট ৪ বার করোনা পরীক্ষা করাতে হবে।

এ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা, বতসোয়ানা ও হংকং থেকে আসা ভ্রমণকারীদের আরো কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করবে ভারত- এমন খবর প্রকাশ করেছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম।

এর পাশাপাশি ইরানও দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলের ছয়টি দেশ থেকে আসা ভ্রমণকারীদের তাদের দেশে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবর অনুযায়ী, ওই অঞ্চল থেকে আসা ইরানি নাগরিকরা দুইবার পরীক্ষার পর নেগেটিভ ফল আসলে দেশে প্রবেশ করতে পারবে।

এদিকে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি দেশের ওপর ফ্লাইট চলাচলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ কিছু দেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টিকে 'অন্যায়' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জো ফাহলা।

তিনি বলেন, 'ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসহ নানা ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে কিছু দেশ যেমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত বিধির সম্পূর্ণ বিপরীত।'

সম্প্রতি এক গবেষণা শেষে করোনাভাইরাসে নতুন এই ধরন শনাক্ত করার কথা জানান দক্ষিণ আফ্রিকার বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, ভাইরাসের নতুন ধরনটির বিস্তৃতি ঘটলে দেশটিতে করোনার চতুর্থ ঢেউ দেখা দিতে পারে। তাদের আশঙ্কা, খুব দ্রুত ধরনটি বিশ্বজুড়েও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

করোনাভাইরাসের নতুন এই ধরনকে 'উদ্বেগজনক' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি বলছে, 'ওমিক্রন'কে এখন পর্যন্ত পাওয়া করোনার ভয়াবহ ধরনগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে ধরা হচ্ছে।