রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে অটোরিকশা চুরির অপবাদে রাসেল শেখ নামের এক যুবককে ছয় দিন ঘরে আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য উসমান কাজীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাতে তালাবদ্ধ ঘর থেকে রাসেলকে উদ্ধার করে পুলিশ।

রাসেল গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দৌলতদিয়া সৈদালপাড়ার নজরুল শেখের ছেলে। এ ঘটনায় রাসেলের খালা শুকুরজান বেগম বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা করেছেন। এদিকে উদ্ধারের পর ইউপি সদস্যের লোকজনের হাতে মারধরের শিকার হয়েছে রাসেলের পরিবার।

নির্যাতনের শিকার রাসেল জানান, তিনি ঢাকায় রিকশা চালান। তার বাবা মানসিক রোগী। মা কয়েক দিন আগে সৌদি আরব গেছেন। এর আগে চলতি মাসের প্রথম দিকে মায়ের সঙ্গে দেখা করে ঢাকা ফিরছিলেন। দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় পৌঁছলে ইউপি সদস্য উসমান কাজীর নেতৃত্বে কয়েক যুবক তাকে তুলে নিয়ে এসে কফিলউদ্দিন তেলের পাম্পের দোতলায় নিয়ে অটোরিকশা চুরির অপবাদ দিয়ে হাত-পা বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করে। রাসেল চুরির সঙ্গে জড়িত নয় দাবি করলে তারা আরও নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে তাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নৌকায় করে পদ্মা নদীতে নিয়ে যায় এবং বলে- যাদের নাম বলতে বলব তুই তাদের নাম বলবি, তা না হলে তোকে কেটে টুকরো টুকরো করে নদীতে ফেলে দেব। প্রাণভয়ে তাদের বলে দেওয়া নাম বলেন এবং তারা সেটি ভিডিও করে রেখে ছেড়ে দেয়।

এ ঘটনায় গত ২০ নভেম্বর দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সালিশ বসে। সেখানে রাসেলের স্বীকারোক্তির ওই ভিডিও প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এতে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়, তার মধ্যে এক ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং কোনো রায় ছাড়া বিচার শেষ হয়। এরপর উসমান কাজী রাসেলকে তার বাড়িতে নিয়ে এসে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখে। রাসেল বলেন, আমাকে আটকে রাখার সময় খেতেও দেওয়া হয়নি। খাবার চাইলেই শুরু হতো অমানুষিক নির্যাতন।

রাসেলের খালা শুকুরজান বেগম জানান, এক ব্যক্তির পরামর্শে তিনি শুক্রবার রাতে ৯৯৯-এ ফোন করে ঘটনা জানান। পরে ওই রাতেই গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ রাসেলকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে ভর্তি করে। এ সময় মকবুল কাজী নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ।

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য উসমান কাজী বলেন, রাসেল যে অটো চুরি করেছে তা স্বীকারও করেছে। সালিশে উপস্থিত গোয়ালন্দ পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম মণ্ডল, দৌলতদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মণ্ডল, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী মোল্লাসহ সবাই রাসেলকে আমার জিম্মায় দেয়। আমি তাদের অনুরোধেই রাসেলকে আমার বাড়িতে রেখে দিই।

দৌলতদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মণ্ডল জানান, বিচারে কাউকে আটকে রাখার কথা বলা হয়নি।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, খবর পেয়ে রাসেলকে উদ্ধার ও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া রাসেলের খালা একটি মামলা করেছেন। অন্যদিকে উদ্ধারের পর রাসেলের পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় রাসেলের নানি জহুরা খাতুন বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করেছেন।