করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে সতর্কতার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার থেকে ইংল্যান্ডে দোকান ও গণপরিবহনে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভেদ এই তথ্য জানিয়েছেন। 

সাজিদ জাভেদ বলেন, চার জাতি (ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়ালস ও নর্দান আয়ারল্যান্ড) রাজি হলে বাইরের দেশ থেকে আগত সব যাত্রীদের ‘যতদ্রুত সম্ভব’ পিসিআর পরীক্ষা করতে হবে। এসব পদক্ষেপ পরিবারের সঙ্গে ক্রিসমাস উদযাপন নিশ্চিত করতে আমাদের সাহায্য করবে। ‘দ্রুত’ এবং ‘সঙ্গতি রেখে’ এগুলোর দিকে আগানো হচ্ছে। খবর বিবিসি অনলাইনের।  

দেশটিতে ভ্যাকসন পাসপোর্ট দেওয়ার কর্মসূচি ধীর করা হয়েছে এবং বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্লান বি’র অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।  যেখানে বলা হয়েছিল, জাতীয় স্বাস্থ্য সেবাকে রক্ষার প্রয়োজনে যদি কোভিড সংক্রান্ত বিষয়ে পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়ে তখন তা কার্যকর করা হবে। 

জাভেদ স্কাই নিউজকে বলেন, মঙ্গলবার থেকে মাস্ক পরার এই নিয়ম কার্যকর হবে এবং তিনি আশা করছেন ‘সপ্তাহখানেকের মধ্যে’ এই বাধ্যবাধকতা আবার তুলে নেওয়া হতে পারে। 

তিনি বলেন, আমাদের অগ্রগতিকে রক্ষা করতে গতকাল এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে। সুতরাং পরিবারের সঙ্গে আমরা আমাদের ক্রিসমাস উপভোগের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবো। পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে সরকার ‘দ্রুত এবং সঙ্গতিপূর্ণভাবে পদক্ষেপ’ গ্রহণ করবে। তবে বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশনার প্রয়োজন মনে করেন না বলেও জানান তিনি।

এর আগে শনিবার ডাউনিং স্ট্রিটে সংবাদ সম্মেলনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পূর্বসতর্কতার অংশ হিসেবে সাময়িকভাবে নতুন করে কিছু বিধি-নিষেধের কথা বলেছিলেন। তিন সপ্তাহের মধ্যে বিধি-নিষেধগুলো পুনরায় রিভিউর কথাও বলেছিলেন তিনি। 

উল্লেখ্য, গত ২৪ নভেম্বর করোনার এই নতুন ধরন ওমিক্রন দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত নতুন ধরনকে প্রাথমিকভাবে ওমিক্রন বি.১.১.৫২৯ নামে ডাকা হচ্ছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ধরনটিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছে।  

এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইসরায়েল ছাড়া বসতোয়ানা, হংকং, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, ইতালি ও জার্মানিতে করোনার নতুন ধরনটির সন্ধান মিলেছে।