কলকাতা পুরভোটে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে অসন্তোষের মুখে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি। অন্য দল থেকে আগতদের নয়, গেরুয়া শিবিরের পুরনো মুখদের প্রার্থী করেও বির্তকের মুখে মুরলীধর সেন লেনের কর্তারা। অপছন্দের প্রার্থী হওয়ায় উত্তর থেকে দক্ষিণে দলীয় নেতাদের প্রতি দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। ইতোমধ্যেই দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক বিদ্রোহী স্থানীয় নেতা প্রার্থী হয়ে আসরে নামতে চলেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার দক্ষিণ কলকাতার ৮৬ নম্বর ওয়ার্ডে গতবারের জয়ী বিজেপি প্রার্থী সদ্য প্রয়াত তিস্তা দাস বিশ্বাসের স্বামী গৌরব বিশ্বাস দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। একইভাবে বেহালা, যাদবপুর এবং উত্তর কলকাতার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে বিজেপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিক্ষোভ করেছেন গেরুয়া শিবিরের কর্মীরা।

২০১৫ সালের পুরভোটে ৮৬ নম্বর ওয়ার্ডে সবাইকে অবাক করে জিতে যান তিস্তা দাস বিশ্বাস। এলাকায় জনপ্রিয় তিস্তা গত ২৭ অক্টোবর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। বিজেপি সূত্র জানিয়েছিল, এই ওয়ার্ডে তার স্বামী গৌরবকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। কিন্তু প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর দেখা যায়, সেখানে গৌরবের পরিবর্তে অন্য প্রার্থীর নাম। 

এ প্রসঙ্গে গৌরব বলেন, আমি প্রার্থী হবো বলে দলে কোনো আবেদন করিনি। কারণ, রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আমাকে বার বার আশ্বস্ত করা হয়, আমি প্রার্থী হচ্ছি বলে। সেইমতো আমি প্রচারও শুরু করি। এখানে আমায় নয় আসলে তিস্তাকেই ফের কাউন্সিলর দেখতে চেয়েছিলেন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। আমি ওর পাশে থেকে সবসময় কাজ করেছি। তিস্তার অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্যই আমি প্রার্থী হতে রাজি হয়েছিলাম এলাকাবাসীদের অনুরোধে।

গৌরব বলেন, ২০১১ সাল থেকে আমি বিজেপি করি। তৃণমূলের ডাকে কোনদিন সাড়া দেয়নি। আমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ কেউ তুলতে পারবে না। আমি চিরকাল বিজেপিই থাকব। ওয়ার্ডের বিজেপি সংগঠন আমাদের হাতে তৈরি। কয়েকজন অসৎ রাজনীতি করে আজ এই ওয়ার্ডটা টাকার বিনিময়ে বেঁচে দিল। দক্ষিণ কলকাতায় বিজেপিকে শূন্য করে দেওয়ার চক্রান্ত করছেন কয়েকজন নেতা। আমি ভোটে দাঁড়িয়ে দেখিয়ে দেব, দল আমায় টিকিট না দিয়ে কতটা ভুল করল। 

এদিকে, বেহালায় প্রার্থী ঘোষণার পর তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয় স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। বিজেপি পতাকা আর কালো পতাকা নিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন দক্ষিণ কলকাতার জেলা সভাপতি শঙ্কর শিকদারের বিরুদ্ধে। ১৩২ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, বেহালায় টাকার বিনিময়ে একাধিক প্রার্থী করা হয়েছে।

অন্যদিকে, যাদবপুরে প্রার্থী তালিকা নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন কর্মীরা। এখানেও জেলা সভাপতির পছন্দের মানুষদের টিকিট দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এসব প্রার্থীদের সম্পর্কে অভিযোগ করা হলেও তার কোনো সুরাহা হয়নি বলে জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতারা। বিক্ষুব্ধ নেতারা হুমকি দিয়েছেন, প্রয়োজনে স্বতন্ত্র হয়ে লড়বেন অথবা তারা পুরভোটে অংশ নেবেন না। 

বিজেপি নেতা তথাগত রায় এ প্রসঙ্গে বলেন, আমার কিছুই বলার নেই। তবে একটা কথা বলব, উনারা বলেছিলেন, সব পুরনোদের প্রার্থী করা হবে। তাহলে এত অসন্তোষ কেন?

গত পুরসভায় কলকাতার ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি কাউন্সিলর ছিলেন সুব্রত ঘোষ। তিনি বলেন, আমি জয়ী কাউন্সিলর। আমাকেই বৈঠকে ডাকা হয় না। যারা ভোটে হেরেছেন বার বার, তারাই সব ঠিক করবেন।

বিজেপির শ্রমিক নেতা বাবান ঘোষ বলেন, তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় নতুন মুখ। অথচ, আমরা নতুন মুখকে প্রার্থী করতে পারছি না। যারা প্রার্থী হতে চেয়ে আবেদন করেছেন তারা হতাশ। কর্মীরাও হতাশ। ঘরছাড়া মানুষরা এখন ঘরে ফেরেনি। কিন্তু রাজ্য অফিসে নেত্রীর জন্মদিন সেলিব্রেট করা হচ্ছে। তার ছবি আবার স্যোশাল মিডিয়ায় দেওয়া হচ্ছে। পুরসভা ভোটেও যদি বিজেপি মুখ থুবড়ে পড়ে, তাহলে বাংলায় দল চালানোই মুশকিল হয়ে পড়বে। এটা বঙ্গ বিজেপি নেতাদের বুঝতে হবে।