সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে শিশুদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে। গেল দশ মাসে অন্তত ৯৮ শিশু ও ৮৯ জন নারীকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্য সরকারের (এনইউজি) নারী, তরুণ ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম ইরাবতি এ তথ্য জানায়।

মিয়ানমারে বিকল্প সরকার এনইউজি চলতি সপ্তাহে জানায়, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত এক হাজার ২২২ জনকে হত্যা করা হয়েছে, এর মধ্যে ৯৮ জন শিশু।

নারী, তরুণ ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির মান্দালয় অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এ অঞ্চলে ২৯ জনের মতো শিশুকে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া ইয়াঙ্গুন ও সাগাইঙ্গ এলাকায় ১২ এর অধিক শিশুকে হত্যা করেছে জান্তা সরকার।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অধিকাংশ শিশু ঘরের পাশে খেলধুলায় মেতে থাকার সময়  অথবা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর এলোপাথাড়ি গুলি থেকে আত্মরক্ষার জন্য লুকিয়ে থাকা অবস্থায় নিহত হয়। এ ছাড়া অসংখ্য শিশু আহতও হয়েছে।

এনইউজি সরকারের মানবাধিকার বিষয়ক মন্ত্রী ইউ অঙ মিয়ো মিন ১৮ নভেম্বর শিশুদের জন্য ন্যায়বিচার বিষয়ক বিশ্ব সম্মেলনে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে শিশুদের পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ তোলেন। 

ইউ অঙ মিয়ো মিন বলেন, শিশুদের রাস্তায় গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে। তাদের নির্যাতন করার পাশাপাশি সামরিক অভিযানের সময় মানবঢাল হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে। এর বাইরে শিশুদের অপহরণ করা হচ্ছে পরিবারকে চাপ দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার জন্য।

বিদেশি সরকার ও জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে শিশুদের অধিকার রক্ষার বিষয়টি এনইউজি সরকারের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানান মানবাধিকার বিষয়ক এ মন্ত্রী।

নিরাপদ নন নারীরাও

গত সপ্তাহে প্রকাশিত জাতীয় ঐক্য সরকারের নারী, তরুণ ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী অন্তত ৮৯ জন নারীকে হত্যা করেছে।

প্রথম হত্যার ঘটনা ঘটে ৯ ফেব্রুয়ারি। সেদিন সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে নেপিদোতে হওয়া বিক্ষোভে সেনা সদস্যদের ছোড়া গুলি মাথায় আঘাত করলে ২০ বছর বয়সি মা মিয়া থেওট খিন নিহত হন।

এছাড়া নিহত নারীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সরকারের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ডাক্তার ও মানবাধিকারকর্মী।

সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে নারীরা মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন।

ছায়া সরকারের নারী ও মানবাধিকার বিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথ এক বিবৃতিতে জানায়, নারীদের আন্দোলন থেকে দূরে রাখতে জান্তা সরকার যৌন নির্যাতনকে অস্ত্র হিসেবে বেছে নিচ্ছে।

গত মাসে, চিন রাজ্যে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ২৭ বছর বয়সী এক নারীকে গণধর্ষণ করেন, যিনি এক মাস আগে সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন।

শান রাজ্যে ৭ নভেম্বর ৬২ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণ করেন অপর এক সেনা সদস্য। বিষয়টি জান্তা সরকার স্বীকার করে নিয়ে ওই সেনা সদস্যর বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

মিয়ানমারের ছায়া সরকারের নারী, তরুণ ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং মানবাধিকার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা প্রতিশ্রুতি দেন, তারা এসব তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং আন্তর্জাতিক আদালত ও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করবেন যেন ভিকটিমরা ন্যায়বিচার পান।