সুন্দরবন-সংলগ্ন দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের জলদস্যু বাহিনীর সমন্বয়কারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৮। জলদস্যু বাহিনীর উপপ্রধান ইলিয়াস আলী মৃধাকে গত মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে বৃহস্পতিবার রাতে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বোয়ালিয়া-পঙ্গীয়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় আরও পাঁচ‎ জলদস্যুকে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৮ রাউন্ড গুলি। শুক্রবার বরিশালে র‌্যাব-৮ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো বরগুনার তালতলী উপজেলার খলিল জমাদ্দার, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মাহতাব পেয়াদা, জামাল আকন্দ, মো. মাছুম ওরফে মানছুর খলিফা এবং গলাচিপা উপজেলার মিনাজ খাঁ। তাদের মধ্যে খলিল জমাদ্দার জলদস্যুদের মূল সমন্বয়কারী বলে দাবি করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব-৮ গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মুঈন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে ইলিয়াস আলী মৃধাকে মঙ্গলবার আটকের পর তার দেওয়া তথ্যে জলদস্যুদের বাহিনীর আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়।

গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব জানিয়েছে, এ জলদস্যু বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১৭-১৮। তিন-চার বছর আগে দলটি গঠন করে বিভিন্ন সময়ে তারা মাছ ধরার মৌসুমে সাগরে জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় ও জাল, মাছ এবং অন্যান্য মালপত্র লুট করে। কয়েকটি উপদলে বিভক্ত হয়ে চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ, কপবাজার, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনা এলাকার দূরবর্তী বঙ্গোপসাগরে তৎপরতা চালাত তারা।

খলিল জমাদ্দার জলদস্যু বাহিনীর মূল সমন্বয়কারী। সে বরগুনার তালতলী, আমতলী ও পটুয়াখালীতে দোকান পরিচালনার ছদ্মবেশে ডাকাতি কার্যক্রম সমন্বয়, ডাকাতি পরিকল্পনা এবং গোপনে ডাকাত দলকে নানা সহযোগিতা করত। ডাকাত দলের লুট করা মাছ কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রির ব্যবস্থা করত সে।