বাংলাদেশকে ভারতের কূটনৈতিক স্বীকৃতির ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে ঢাকায় বিশিষ্টজন বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক রক্তের। মুক্তিযুদ্ধে উভয় দেশের নাগরিকরা রক্ত দিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত এক কোটি বাঙালিকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়েও সহায়তা করেছিল। তাই বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী কখনও ছিন্ন হবে না।

সোমবার পৃথক অনুষ্ঠানে তারা এসব কথা বলেন। এদিন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি 'বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রীর ৫০ বছর' শীর্ষক আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা আয়োজন করে। এছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাবে 'স্বাধীনতার ৫০ বছর' শীর্ষক আলোচনা সভা করে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম।

সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ১৯৭১ সালে ৬ ডিসেম্বরের আগেই আমরা জানতে পেরেছিলাম ভুটান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ভুটান ভারতের নির্দেশনায় বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। ভারত যখন স্বীকৃতি দেয় তখন এটি একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। তিনি আরও বলেন, সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি মডেল। বন্ধুভাবাপন্ন এসব দেশে চলাচল উন্মুক্ত করতে হবে যেন কোনো ভিসা না থাকে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে এগিয়ে নিতে হবে দুই দেশের সম্পর্ক।

সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের কার্যকরী সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আরোমা দত্ত, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ড. সারওয়ার আলী, বাংলাদেশে ভুটানের রাষ্ট্রদূত রিনচেন কুয়েন্টশিল, সাবেক রাষ্ট্রদূত মহিউদ্দিন আহমেদ, ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব খলিলুর রহমান, সংগঠনের মহাসচিব হারুন হাবীব প্রমুখ।

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভার্চুয়াল সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের নাড়ির সম্পর্ক। বেশকিছু অমীমাংসিত দ্বিপক্ষীয় বিষয় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করেছেন। বাকি বিষয়গুলোও অচিরেই সমাধান করা হবে।

বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, মৈত্রী দিবস ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জনগণের বন্ধুত্বেরও স্বীকৃতি। অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ১৭ হাজার সদস্য শহীদ হয়েছেন। অন্য কোনো দেশকে স্বাধীন করার জন্য এ ধরনের আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত বিশ্বের ইতিহাসে বিরল।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলনের সভাপতি বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননাপ্রাপ্ত ভারতের সাংবাদিক মানস ঘোষ, আকাশবাণী কলকাতার সাবেক প্রযোজক কবি পঙ্কজ সাহা ও ব্রিটিশ মানবাধিকার নেতা জুলিয়ান ফ্রান্সিস, মানবাধিকার নেত্রী আরোমা দত্ত এমপি, ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব এবং ভারতের সাংবাদিক তাপস দাস।

বিষয় : বাংলাদেশকে ভারতের কূটনৈতিক স্বীকৃতি ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন

মন্তব্য করুন