এক সময় করোনার টিকার জন্য হাহাকার চললেও এখন ক্রেতা পাচ্ছে না বিশ্বের বৃহত্তম টিকা উৎপাদনকারী সেরাম ইন্সটিটিউট। ফলে উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি।

সেরামের সিইও আদর পুনেওয়ালা বলেছেন, ভারত সরকার তাদের কোভিশিল্ডের জন্য পর্যাপ্ত অর্ডার দিচ্ছে না। বিশ্বের অন্যান্য দেশও তেমনটা কিনছে না। তাই মাসিক উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এখন বুস্টার ডোজ তৈরির দিকে নজর দিচ্ছে সেরাম। যারা কোভিশিল্ডের দুটি করে ডোজ নিয়েছে তাদের বুস্টার ডোজের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে ভারত সরকারকে চিঠি দিয়েছে সেরাম। কিন্তু সরকার এখনোএ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি। খবর বিবিসির।

পুনেওয়ালা বলেন, 'আমি আসলে এমন একটি দ্বিধায় আছি যা আগে কখনও কল্পনাও করিনি। এর আগে আমরা প্রতি মাসে ২৫ কোটি ডোজ তৈরি করছি। কিন্তু এখন তা কমাতে হচ্ছে।'

ভবিষ্যতে করোনার টিকা উৎপাদন প্রসঙ্গে আদর পুনেওয়ালা বলেন, 'হাতে অন্য কোনো অর্ডার নেই। এরপর আবার অর্ডার এলে উৎপাদন বৃদ্ধির দিকে নজর দেব। আট মাস ধরে আমরা রপ্তানি করতে পারিনি। অন্য দেশগুলি যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্য দেশ থেকে টিকা নিয়েছে। একটা বড় বাজার হারিয়েছি আমরা।' ১৩৫ কোটি জনসংখ্যার ভারতে ইতিমধ্যেই ১৩০ কোটি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক ৮৫ শতাংশ মানুষকে ইতিমধ্যেই দুটি করে ডোজ দেওয়া হয়েছে।

সেরাম থেকে বাংলাদেশ তিন কোটি ডোজ টিকা কিনেছিল। তবে ভারত সরকারের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে তা যথাসময়ে সরবরাহ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে এক কোটি ২৫ লাখ ডোজ টিকা দিয়েছে সেরাম।