ঐতিহাসিক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর জীবিকা নির্বাহে ট্যাক্সি ড্রাইভার হিসাবেও কাজ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এক তথ্যচিত্রে তিনি এই মন্তব্য করেন।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয়। আর এতেই রাশিয়ার পতন হয় বলে জানান পুতিন। এর ফলে অর্থনৈতিক মন্দার সম্মোখীন রাশিয়ার অনেক বাসিন্দা জীবিকা নির্বাহের জন্য নানা ধরনের কাজ শুরু করেছিলেন। আর তিনিও ট্যাক্সি ড্রাইভার হিসাবে কাজ করেছেন। তার এই মন্তব্য সাবেক সোভিয়েত রিপাবলিক ইউক্রেন ঘিরে তার বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে বলে যে গুজব রয়েছে সেটি আরও উস্কে দিয়েছে।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, রাশিয়া ইউক্রেন সীমান্তে ৯০ হাজারের বেশি সৈন্য সমাবেশ করেছে দেশটিতে অভিযান চালানোর জন্য। তবে সেটি নাকচ করে উলটো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে উস্কানি দেয়ার অভিযোগ এনেছে রাশিয়া। সেই সঙ্গে পূর্বাঞ্চলে নেটোর বিস্তার না ঘটার নিশ্চয়তা দাবি করেছে।

'রাশিয়া, সর্বশেষ ইতিহাস' নামে ১২ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে প্রচারিত একটি তথ্যচিত্রে তিনি ওই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন,''সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের মাধ্যমে আসলে ঐতিহাসিক রাশিয়া বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।'' সেই সঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, পশ্চিমা দেশগুলোর অনেকের ভেবেছিল অল্প সময়ের মধ্যেই রাশিয়া আরও টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের বিষয়টি যে পুতিনের জন্য দুঃখজনক ছিল তা আগেই জানা গিয়েছে। কিন্তু সেই সময় তিনি ব্যক্তিগতভাবে যে ধরনের সমস্যায় পড়েছিলেন তা একেবারে নতুন তথ্য।

পুতিন বলেন, 'অনেক সময় আমাকে বাড়তি অর্থ রোজগার করতে হতো। তখন ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে আমি বাড়তি কিছু অর্থ আয় করতাম। সত্যি কথা বলতে— এ বিষয়ে কথা বলাটা অস্বস্তিকর, কিন্তু এটিই ছিল সত্য ঘটনা।

সেই সময় রাশিয়ায় ট্যাক্সি সেবা তেমন না থাকায় অনেকে ব্যক্তিগত গাড়ির দিয়ে বাড়তি অর্থ আয় করার জন্য যাত্রী পরিবহন করতেন। অনেকে এমনকি অ্যাম্বুলেন্সের মতো যানবাহনও ট্যাক্সি হিসাবে ব্যবহার করতেন।

সোভিয়েত গুপ্তচর সংস্থা, কেজিবির একজন সাবেক এজেন্ট হিসেবে পরিচিত ভ্লাদিমির পুতিন। তবে নব্বইয়ের দশকে তিনি সেন্ট পিটার্সবার্গের মেয়র অ্যানাতোলি সোবচাকের দপ্তরে চাকরি করতেন। তিনি বরাবরই বলে এসেছেন, ১৯৯১ সালের অগাস্টে সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের পর তিনি পদত্যাগ করেন।

ওই অভ্যুত্থান ঘটনার পরপরই সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যায়।