মালয়েশিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। উদ্ধার প্রচেষ্টা নিয়ে জনসাধারণ এবং বিরোধী আইনপ্রণেতাদের সমালোচনার মধ্যে পড়েছে মালয়েশিয়া সরকার।

অক্টোবর থেকে মার্চের মধ্যে বার্ষিক বর্ষা মৌসুমে মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূলে বন্যা অনেকটা স্বাভাবিক ব্যাপার। এরমধ্যে গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া অস্বাভাবিকভাবে ভারি বৃষ্টিপাত সারাদেশে জরুরি পরিষেবাগুলোতে চাপ সৃষ্টি করেছে।

রাজধানী কুয়ালালামপুরকে ঘিরে থাকা সবচেয়ে সম্পদশালী সেলাঙ্গর সবচেয়ে জনবহুলও। এ রাজ্যেই ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে সাতটি রাজ্যজুড়েও এর প্রভাব পড়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাকে একত্রিত করে উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ চালানো হচ্ছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বার্নামা জানিয়েছে, সোমবার বন্যায় মৃত্যু হওয়া আটজনের মরদেহ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সেলাঙ্গর পুলিশ।


রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে,  দেশটির শাহ আলম জেলার আশপাশে এখনও অনেক লোক বাড়িঘরে আটকে রয়েছেন। নৌকা এবং জনবলের অভাবের কারণে উদ্ধার প্রচেষ্টা ব্যাহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ জন্য সরকারের সমালোচনা করছে সাধারণ জনগণ ও বিরোধীরা।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী টুইটারে জানিয়েছেন, সোমবার পর্যন্ত সেলাঙ্গর থেকে ৩২ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাদের অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। 

তবে রাজ্যের অনেক জায়গায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় আরও কতজনকে উদ্ধার করা হবে, তা স্পষ্ট নয়।

প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল সাবরি ইয়াকুব বলেন, এ মুহূর্তে সেলাঙ্গরের পরিস্থিতি কিছুটা বিশৃঙ্খল। অন্যান্য রাজ্যে, বর্ষার জন্য আগেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু সেলাঙ্গরে প্রায় হঠাৎ করেই এমনটি হয়েছে।

এদিকে বন্যার কারণে দেশটির বৃহত্তম বন্দর পোর্ট ক্লাংয়ের কার্যক্রমে মারাত্মক বিঘ্ন হচ্ছে। পাশাপাশি বন্যা ও ভূমিধসের কারণে বহু সড়ক ও মহাসড়কও বন্ধ।