ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মহারাষ্ট্র নিবাস হল থেকে কলকাতার নতুন মেয়রের নাম ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাজ্যের রাজধানীর মহানাগরিক হলেন ফিরহাদ হাকিম। পৌরসভার চেয়ারম্যান হলেন মালা রায়। 

এদিন শুরুতেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের জয়ী ১৩৪ জন কাউন্সিলরকে অভিনন্দন জানান। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী নতুন চেয়ারম্যানের নাম প্রস্তাব করেন। কলকাতা পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে মালা রায়ের নাম প্রস্তাব করেন সুব্রত বক্সী। কলকাতা পৌরসভার দলনেতা হিসেবে ফিরহাদ হাকিমের নাম প্রস্তাব করেন বক্সী। দুই প্রস্তাবেই উঠে আসে সমর্থনের হাত।

ডেপুটি মেয়র হলেন অতীন ঘোষ। ১৩ জন মেয়র পরিষদের সদস্য হলেন। নাম রয়েছে— দেবাশিস কুমার, দেবব্রত মজুমদার, বাবু বক্সী, আমিরুদ্দিন ববি, সন্দীপন সাহা, জীবন সাহা, রাম পিয়ারী রাম, অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়, তারক সিং, মিতালী বন্দ্যোপাধ্যায়, জীবন সাহা, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ও স্বপন সমাদ্দারের।

মেয়র পদে বসেই ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘জীবন যদি যায় যাবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বাসকে ভঙ্গ হতে দেব না। তার আদর্শ, বিশ্বাস নিয়েই এতদিন পুরবোর্ড চলেছে। এরপরও চলবে। অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথে হেঁটে আমরা শুধু কাজ করে যাব। আমৃত্যু ওনার বিশ্বাসের মর্যাদা দিয়ে উনি যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা পালন করব।’

একই সঙ্গে ১৬টি বরোর চেয়ারম্যানের নামও এদিন ঘোষণা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তারা হলেন— এক নম্বর বরোর দায়িত্বে তরুণ সাহা, দুই নম্বর বরোর দায়িত্ব সামলাবেন শুক্লা ভোঁড়, তিন নম্বর বরোর দায়িত্বে অনিন্দ্যকিশোর রাউত, ৪ নম্বর বরোর সাধনা বোস, ৫ নম্বর বরোর রেহানা খাতুন, ৬ নম্বর বরোর সানা আহমেদ, সাত নম্বর বরোর বরো সুস্মিতা ভট্টাচার্য, আট নম্বর বরোর চৈতালী চট্টোপাধ্যায়, নয় নম্বর বরোর দেবলীনা বিশ্বাস, ১০ নম্বর বরোর জুঁই বিশ্বাস, ১১ নম্বর বরোর তারকেশ্বর চক্রবর্তী, ১২ নম্বর বরোর সুশান্ত ঘোষ, ১৩ নম্বর বরোর রত্না শূর, ১৪ নম্বর বরোর সংহিতা দাস, ১৫ নম্বর বরোর রঞ্জিত শীল ও ১৬ নম্বর বরোর সুদীপ পোলে।

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের ১৬টি বরোর মধ্যে ১০টি বরো কমিটির চেয়ারম্যানই নারী। এটি নারীদের এমপাওয়ারমেন্টের একটা প্রকাশ। খুব ভালো করে কাজ করুন। খুব ভালো থাকুন। মালা রায় চেয়ারপার্সন হয়েছেন। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথের যে বিষয়গুলো আছে, সেগুলো সেরে ফেলতে হবে।’

তৃণমূল সুপ্রিমো আরও বলেন, ‘১৩৪ জন কাউন্সিলরকেই আমার অভিনন্দন জানাচ্ছি। তৃণমূলের সম্পর্ক মাটির সঙ্গে। যেদিন আমি তৃণমূল তৈরি করি, আমার একটাই উদ্দেশ্য ছিল মা মাটি মানুষ। একটা আদর্শ, একটা কর্মধারা দিয়ে, একটা প্রাণধারা দিয়ে দলটা তৈরি করেছি। অনেকের কুৎসা, চরিত্র হননের পরও মানুষ আমাদের উপর আস্থা রেখেছেন। সেই দাম দিতেই হবে।’

একই সঙ্গে এই মঞ্চ থেকেই নব নির্বাচিত কাউন্সিলরদের বার্তা দিয়ে মমতা বলেন, ‘বাদ বাকি অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাউন্সিলররা আছেন। ধীরে ধীরে আমরা পারফরম্যান্স দেখব। আমরা কাজের রিভিউ করব। যারা ভালো কাজ করবেন, ভালো পাবেন। যারা ভালো কাজ করবেন না তাদের জন্য দল সিদ্ধান্ত নেবে। দলের উপর বিশ্বাস রাখুন সব হবে। ব্যক্তিগত লবি নয়। একটাই লবি, দল একটাই। আমাদের সবার নেতা কিন্তু জোড়া ফুলটাই। জোড়া ফুলের নেতা মা মাটি মানুষ।’

ফিরহাদ ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ৭ মে পর্যন্ত কলকাতার মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচন বিলম্বে হওয়ার কারণে সেসময় পৌরসভা ভেঙে দেওয়া হয়। ফিরহাদকে করা হয় পৌর করপোরেশনের মুখ্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা। সেই থেকে তিনি করপোরেশনের মুখ্য প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

১৯ ডিসেম্বর কলকাতা পৌর করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ১৩৪ ওয়ার্ডে জয় পায় তৃণমূল।