ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪

নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাতের পর ক্ষুব্ধ ইসরায়েলি জিম্মিদের পরিবার

নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাতের পর ক্ষুব্ধ জিম্মিদের পরিবার

জিম্মি পরিবারগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী একটি দল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১৩:১৬ | আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১৩:৩৫

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা থেকে মুক্তি পাওয়া জিম্মিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে এই বৈঠক নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জিম্মিদের পরিবারের কেউ কেউ। বেশ কয়েকজন স্বজন সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। দানি মিরান নামে একজন যার ছেলে জিম্মি ছিলেন- তিনি জানান, তিনি এতটাই বিরক্ত যে, বৈঠকের মাঝখান থেকে চলে গিয়েছিলেন। খবর-আলজাজিরা

ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের আরও ১৩৮ জন নাগরিক এখনও গাজায় হামাসের হাতে জিম্মি। মঙ্গলবারের ওই বৈঠকটি যখন হয় তখন অবরুদ্ধ গাজায় তীব্র লড়াই চলছিল। সাত দিনের যুদ্ধবিরতি শেষে শতাধিক জিম্মিকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয় ইসরায়েল, যাদের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার সময় হামাস জিম্মি করে নিয়ে যায় গাজায়। ইসরায়েলের কারাগারে বন্দী ২৪০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তির বিনিময়ে তাদের ফিরিয়ে আনা হয়।

ইসরায়েলের একটি টিভি চ্যানেলকে দানি মিরান বলছিলেন, বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছিল তার বিশদ বিবরণে যাব না। তবে এই পুরো ব্যাপারটি অপমানজনক ও অগোছালো ছিল। সরকার বিষয়টির বাইরে গিয়ে প্রহসন করছে।

বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, তারা (ইসরায়েলি কর্মকর্তা) বলে, আমরা এটা করেছি, ওটা করেছি। হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার সেই ব্যক্তি যিনি আমাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে দিয়েছেন। এটা আমাকে রাগান্বিত করে, কারণ তাদের ভাষ্য যে- তারা এগুলো নির্দেশ করেছিল। তারা একটি পদক্ষেপও নির্দেশ করেনি।

হামাসের হাতে বন্দী একজনের স্বজন জেনিফার বলেন, এটি খুবই অশান্ত একটি মিটিং ছিল। অনেক লোক চিৎকার করছিল। 

২৩ বছর বয়সী জিম্মি রোমি গোনেনের মা মিরাভ লেশেম গনেন বৈঠকের পর ইসরায়েলি একটি টেলিভিশনকে বলেন, আমি নেতানিয়াহুকে জিজ্ঞাসা করেছি, যুদ্ধের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল জিম্মিদের ফিরিয়ে আনা? তিনি আমাকে সরাসরি উত্তর দিয়েছেন, 'হ্যাঁ'। আমি তার উত্তরে খুশি, কিন্তু বাস্তবতা হলো শুধুমাত্র সময় গণনা।

লেশেম গোনেন বলছিলেন যে, তিনি উদ্বিগ্ন। কারণ জিম্মিদের সঙ্গে গুরুতরভাবে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে। নারী, অল্পবয়সী মেয়ে এবং পুরুষদের সঙ্গেও। কিছু পরিবার এরই মধ্যে নেতানিয়াহুর সরকারের প্রতি ধৈর্য হারাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। 

জিম্মিদের পরিবারের সদস্যরা বাকিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বৈঠকে। ‌আমরা চাই আমাদের সরকার ও সামরিক বাহিনী যত দ্রুত সম্ভব আলোচনা শুরু করুক। তাদের ফিরিয়ে আনুক। বলছিলেন ২১ বছর বয়সী জিম্মি আলনের মা। 

তিনি বলেন, ৬০ দিন অনেক বেশি। আমি ৬১ দিন চাই না, আমি ৬৫ দিন চাই না। আমি তাদের এখনই ফেরত চাই।

আলোচনা নিয়ে অচলাবস্থার অভিযোগ তুলে ইসরায়েল ২ ডিসেম্বর কাতার থেকে তাদের আলোচকদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আর হামাস জানিয়েছে যে, গাজা যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা আর কোনো বন্দিকে মুক্তি দেবে না।

আরও পড়ুন

×