ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪

উপত্যকার তিন জেলায় তীব্র লড়াই

১৬ বছর বয়সেই পাঁচ যুদ্ধের সাক্ষী গাজার শিশুরা

ইসরায়েলি বর্বরতা

১৬ বছর বয়সেই পাঁচ যুদ্ধের সাক্ষী গাজার শিশুরা

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২২:২৬

কী নির্মম ভাগ্য গাজা উপত্যকার শিশুদের! বর্তমানে যে শিশুর বয়স ১৬ বছর, সে ইতোমধ্যেই নিজ ভূমিতে পাঁচবার ইসরায়েলি আগ্রাসন দেখেছে। সাক্ষী হয়েছে অকল্পনীয় মৃত্যু, ধ্বংসযজ্ঞ ও বিভীষিকার। 

২০০৭ সালে ইসরায়েল গাজার ওপর স্থল, সমুদ্র এবং আকাশ অবরোধ আরোপ শুরু করে। তার পর থেকে এই উপত্যকায় অন্তত পাঁচটি বড় ধরনের অন্যায় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে ইহুদিবাদী দেশটি। 

২০০৮ সালে যে শিশুর বয়স ছিল মাত্র এক বছর, সে তখনই ২২ দিনের বিধ্বংসী বিমান এবং স্থলযুদ্ধে বেঁচে গেছে। ইসরায়েলের ওই ‘অপারেশন কাস্ট লিডে’ ৩২০ শিশুসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত হন।

বেঁচে যাওয়া ওই শিশুরাই পাঁচ বছর বয়সে ২০১২ সালে আট দিনের ইসরায়েলি হামলার প্রত্যক্ষদর্শী হয়। এতে ৩০ শিশুসহ ৮০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়।

২০১৪ সালে সাত বছর বয়সে সেই শিশুরা ৫০ দিনের ইসরায়েলি আগ্রাসনের সাক্ষী হয়। সেই সময় ৫৫১ শিশুসহ অন্তত ২ হাজার ৩১০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়।

১৪ বছর বয়সে ২০২১ সালে কৈশোরে তারা ১১ দিন স্থায়ী ইসরায়েলি হামলার মুখোমুখি হয়। এতে ৬৭ শিশুসহ ২৬০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইহুদিবাদী সেনারা।

বর্তমানে ১৬ বছর বয়সে গাজায় শিশুরা অন্তত ১০০ বছরের মধ্যে বিশ্বের বর্বরতম ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞ দেখছে। এ হামলায় ৭ হাজারের বেশি শিশুসহ অন্তত ১৭ হাজার ১৭৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
অবরুদ্ধ এ জনপদে ইসরায়েলি আগ্রাসন গতকাল বৃহস্পতিবার তৃতীয় মাসে গড়িয়েছে। ইসরায়েলি বর্বর হামলায় গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। 

এর মধ্যে গাজার সবচেয়ে বড় তিনটি শহর এবং তার আশপাশে গতকাল ইসরায়েলি বাহিনী ও হামাসের মধ্যে ভারী যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। বিমান শক্তি, ট্যাঙ্ক এবং সাঁজোয়া বুলডোজারের সহায়তায় ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ গাজার সবচেয়ে বড় শহর খান ইউনিস, গাজা সিটি এবং উত্তরের জাবালিয়া জেলায় হামলা চালায়। হামাস যোদ্ধারাও পাল্টা জবাব দেন। এতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরও তিন সেনা নিহত হয়েছে বলে দেশটি ঘোষণা দিয়েছে। এ নিয়ে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অন্তত ৪১৪ সদস্য মারা গেছে।

দাতব্য সংস্থা অক্সফাম বৃহস্পতিবার বলেছে, গাজা ধ্বংসে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ‘সহযোগী’। সংস্থাটি বলছে, গাজায় ইসরায়েলের দুই মাসের যুদ্ধ ধ্বংস, বিপদ, এবং বেসামরিক সন্ত্রাস এবং এমন মাত্রায় দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে, সমগ্র ছিটমহলজুড়ে কোনো মানবিক প্রতিক্রিয়াও অসম্ভব করে তুলেছে। এই ‘দুঃস্বপ্ন’ উন্মোচিত হওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এবং বিশেষ করে ইসরায়েলের সমর্থকদের সমালোচনা করেছে অক্সফাম। অক্সফামের মানবিক পরিচালক মার্টা ভালদেস গার্সিয়া বলেছেন, আমাদের রাজনৈতিক নেতারা ব্যর্থ হচ্ছেন। সূত্র: আলজাজিরা ও এএফপি। 

আরও পড়ুন

×