ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

এবার বিহারে ‘হালাল’ লেখা পণ্য বন্ধের দাবি

এবার বিহারে ‘হালাল’ লেখা পণ্য বন্ধের দাবি

প্রতীকী ছবি

শুভজিৎ পুততুন্ড, কলকাতা

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১৪:৪৮ | আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২১:২৮

সম্প্রতি ভারতের উত্তরপ্রদেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ‘হালাল’ লেখা পণ্যের বিক্রি। এবার বিহারেও ‘হালাল’ লেখা খাবার বিক্রি বন্ধের দাবি উঠল। গত বৃহস্পতিবার ভারতের কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী গিরিরাজ সিং ‘হালাল সার্টিফায়েড’ লেখা পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে। ‘হালাল’ লেখা পণ্যে বিক্রি বন্ধের দাবি উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ, কর্ণাটক, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, রাজস্থানের মতো রাজ্যেও। 

ভারতে খাদ্য পণ্যের বিক্রির উপরে ‘হালাল’ ট্যাগ সংক্রান্ত বিতর্ক দীর্ঘদিনের। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দেশটিতে ‘হালাল’ খাদ্য বা পণ্যের সরকারি স্বীকৃতি নেই। ভারতে খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে সরকারিভাবে স্বীকৃতি বা সার্টিফিকেট দেওয়ার অধিকারী সংস্থাটি হলো এফএসএসএআই বা ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অব ইন্ডিয়া। যদিও হালাল ইন্ডিয়া নামে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বেসরকারিভাবে ‘হালাল’ সার্টিফিকেট দিয়ে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেটে মান্যতা দেয় কাতার, সংযুক্ত আরব, মালয়েশিয়াসহ বেশ কিছু দেশ। সেই সূত্রে ভারত বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করে। ভারতে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো এইসব সংস্থার দেওয়া হালাল সার্টিফিকেটের বিরোধিতা করে আসছে। যদিও রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে ‘হালাল’ ট্যাগে আপত্তি জানায়নি সংগঠনগুলো। 

সম্প্রতি ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে হজরতগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআরকে হাতিয়ার করে বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকার নড়েচড়ে বসে। অভিযোগ, বেশ কিছু খাদ্যপণ্য বাজারে বিক্রি হচ্ছে যেগুলোতে ‘হালাল’ সার্টিফিকেটের উল্লেখ রয়েছে। এইভাবে মানুষের বিশ্বাসকে পণ্য বিক্রির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাস্তবে ‘হালাল’ সার্টিফিকেটের কোনো সরকারি স্বীকৃতি নেই। এরপরেই আদালতের নির্দেশ আসার আগেই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে চলতি সপ্তাহেই উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের সরকার হালাল সার্টিফায়েড লেখা পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা দেয়। একে একে বিভিন্ন রাজ্য থেকে হিন্দুত্ববাদীরা ‘হালাল’ ট্যাগ বিরোধিতায় সরব হতে শুরু করেছে। 

ইসলামিক রীতিতে জীবনযাপনে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে ‘হালাল’ শব্দের বহুল ব্যবহার রয়েছে। শব্দটির মূল অর্থ- যা ধর্মীয় বিধানসম্মত। এটি আরবি শব্দ।এর বিপরীত শব্দটি- হারাম অর্থাৎ যা গ্রহণযোগ্য নয়, মন্দ। ইসলামিক রীতিতে অ্যালকোহল বর্জিত পণ্যকেও হালাল পণ্য হিসেবে মান্যতা দেওয়া হয়। 

বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের বাজারে ব্যবহৃত পণ্যের গায়ে ‘হালাল’ লেখার চল আছে। বিশেষ করে মুসলিমদের বাস বেশি এমন দেশের সব এলাকার দোকান, বাজারে ‘হালাল’ লেখা পণ্য বিক্রি হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন

×