ঢাকা বুধবার, ২২ মে ২০২৪

ইসরায়েলি বর্বরতা

যুদ্ধবিরতির পথ তৈরির চেষ্টায় নেতানিয়াহু

যুদ্ধবিরতির পথ তৈরির চেষ্টায় নেতানিয়াহু

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০৫:৪৯

গাজায় ভুলবশত গুলি করে নিজেদের তিন জিম্মিকে ইসরায়েলি বাহিনীর হত্যার ঘটনায় তেল আবিবে তুমুল বিক্ষোভ ও নানামুখী চাপে আবারও যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটছে ইহুদিবাদী দেশটি। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শনিবার এই ইঙ্গিত দিয়েছেন। 

তিনি বলেন, হামাসের হাতে জিম্মিদের উদ্ধারে নতুন করে আলোচনা চলছে। এর আগে তিনি যুদ্ধবিরতির পথ তৈরিতে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধানকে পাঠান ইউরোপে। সেখানে তিনি বৈঠক করেন কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে।  

টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু গাজায় ইসরায়েলি হামলাকে ‘অস্তিত্বের যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর বক্তব্য, নানামুখী চাপ ও অস্বাভাবিক ব্যয় হলেও জয় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় গাজাকে নিরস্ত্রীকরণ করা এবং উপত্যকাটিকে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে বলেও জানান ইহুদিবাদী এই নেতা।

এর আগে অবশ্য গত শনিবার কাতারের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করে বলা হয়, সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনা চলছে। তবে সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের বিষয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেও আলোচনাকারী দলকে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান নেতানিয়াহু। 

গত শুক্রবার গভীর রাতে কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মেদ বিন আবদুলরাহমান আল থানির সঙ্গে আলোচনা করেন মোসাদের প্রধান ডেভিড বারনিয়া। এর আগে গত মাসের যুদ্ধবিরতিতেও প্রধান মধ্যস্থতাকারী ছিল কাতার।

এদিকে এক বিবৃতিতে কোনো ধরনের আলোচনা নাকচ করে দিয়েছে হামাস। তারা জানায়, ‘ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর হামলা ও আগ্রাসন পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত বন্দি বিনিময়ের বিষয়ে কোনো আলোচনা হবে না। এরই মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে এই কথা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ এখনও অন্তত ১০০ ইসরায়েলি হামাসের কাছে জিম্মি রয়েছে। 

এদিকে গাজায় হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ নিহতের ঘটনায় সতর্ক করে স্থায়ীভাবে এ হত্যাযজ্ঞ বন্ধের পথ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। তিনি বলেন, ‘শুধু দিন কিংবা বছরের জন্য নয়, প্রজন্মের জন্য স্থায়ী শান্তি হতে হবে। তাই আমরা শুধু টেকসই যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করি।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভানও একই কথা বলেন এর আগে। ক্যামেরনের বক্তব্যের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ যোগ হলো। 

অবশ্য সানডে টাইমসে প্রকাশিত ক্যামেরন এবং জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের লেখা যৌথ কলামে যুদ্ধবিরতির আহ্বান থেকে বিরত থেকেছেন দু’জনই। এরই মধ্যে অবিলম্বে টেকসই যুদ্ধবিরতির জোরালো আহ্বান জানিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাথরিন কোলোনা বলেন, আমরা গাজার পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরুর চেষ্টার মধ্যেও থেমে নেই গাজায় ইসরায়েলি হামলা। গতকাল রোববার উত্তর গাজায় ১২ জন নিহত হয়েছে। আর ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বুলডোজার দিয়ে উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের সামনে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে পিষে হত্যা করেছে। এই ঘটনার জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত দাবি করেছেন তারা। হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত  প্রায় ১৯ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে গাজায়। 

এদিকে, অবরুদ্ধ গাজায় ক্রমাগত বাড়ছে ক্ষুধা। খাবারের অভাবে বেহুঁশ লাখো মানুষ। গতকাল রাফাহ ক্রসিংয়ের ত্রাণবাহী ট্রাকে উঠে পড়েন এক দল ক্ষুধার্থ মানুষ। এদিকে, ইসরায়েল জানিয়েছে, কারেম আবু সালেম ক্রসিং দিয়ে প্রথমবারের মতো গাজায় ত্রাণ প্রবেশ করেছে।


 

আরও পড়ুন

×