মাহবুবুর রহমান। বয়স ৫০ বছর। কখনও বলতেন পুলিশের বড় কর্তা তিনি, কখনও হতেন প্রশাসনের বড় কর্মকর্তা। এসব পরিচয়ে মামলা থেকে আসামি বাদ দেওয়া কিংবা আসামি অন্তর্ভুক্ত করা থেকে তদন্ত কর্মকর্তা পর্যন্ত বদল করে দিতেন তিনি! কখনও কখনও পরতেন পুলিশ কর্মকর্তাদের দৌড়ানোর পোশাক (ট্রাকস্যুট)। যা পরে পুলিশের সঙ্গেই করতেন প্রতারণা। আর সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা তো তার কাছে ছিল ‘ডালভাতের’ মতো।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) হাতে ধরা পড়ার পর মাহবুবুরের রাজ্যের প্রতারণার ঘটনা মিলছে। গত সোমবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান। সেখানে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, মাহবুবুর রহমান নিজেকে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন থানা-ফাঁড়িসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাদের কাছে তদবির বাণিজ্য করে আসছিলেন। মতিঝিল থানার একটি মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন ও অবৈধ সুবিধা দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা নেন তিনি। ওই ভুক্তভোগীকে নিজের প্রভাব ও ক্ষমতা বোঝানোর জন্য তিনি সিআইডির একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন-সংক্রান্ত ভুয়া অফিস আদেশ তৈরি করে দেন। বিষয়টি নজরে এলে সিআইডি তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসে।

সিআইডির কর্মকর্তারা জানান, মাহবুব সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অনেকের কাছ থেকেই চাকরিতে নিয়োগ-পদোন্নতি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে নিজেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে আসামির নাম বাদ দেওয়া এবং অন্তর্ভুক্তির জন্যও তদবির করতেন তিনি। এ ছাড়া জমির দালালিসহ অন্যান্য প্রতারণার কাজও তিনি করতেন।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর জানান, গ্রেপ্তার মাহবুব ২০১০ সাল থেকে প্রতারণা করে আসছিলেন। তার সুনির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। প্রতারণার মাধ্যমে তিনি বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন এবং আয়েশি জীবনযাপন করতেন। তার অবৈধ সম্পদের সন্ধান করা হবে।