করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন বিশ্বব্যাপী সংক্রমণের নতুন ঢেউ তৈরি করেছে। কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর পর থেকে আবির্ভুত হওয়া ধরনের তুলনায় এটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। 

যদিও পূর্বের ধরনগুলো থেকে এটি কম ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও হয়তো কেউ কেউ জানতে চাইবেন কেন এই ধরনে সংক্রমিত হওয়া ঠেকাতে প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে। আজ না হয় কাল তো এই ধরনে সংক্রমিত হতেই হবে। সেসব জিজ্ঞাসার ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন এই ধরনে সংক্রমিত হওয়া ঠেকাতে এখনো মানুষকে প্রচেষ্টা চালানো উচিত। তবে ওমিক্রনের সংক্রমণ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা এই পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটে। দেশটিতে এখন ওমিক্রন দাপট দেখাচ্ছে।      

আপনি এখনো ভয়াবহ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন

গবেষণায় দেখা গেছে, ওমিক্রন আগের ধরনগুলোর তুলনায় কম উপসর্গহীন। আর যাদের উপসর্গ দেখাও যায় তা খুবই মৃদু। যেমন পূর্বের ধরনের মতো কোনোরকম শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা ছাড়াই ওমিক্রনে কেবল গলা ব্যথা বা সর্দি হতে পারে। কিন্তু বিভিন্ন দেশে ব্যাপকভাবে সংক্রমণের মানে হলো অধিকসংখ্যক মানুষ গুরুতর অবস্থার মুখোমুখি পড়বে। নির্দিষ্ট করে বললে,  ইতালি এবং জার্মানি থেকে সাম্প্রতিক পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, যারা টিকা নেননি তারা ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে এমনকি মারাও গেছেন।  

রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ মিশেল নুসেনজওয়েগ বলেছেন, দুই দিন আগে বা পরে সবাই ওমিক্রনে সংক্রমিত হবেন মানছি। তবে পরে সংক্রমিত হওয়াই ভালো। কারণ তখন আরও ভালো ওষুধ এবং টিকা সহজে পাওয়া যাবে। 

আপনি অন্যদেরও সংক্রমিত করতে পারেন

ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে ভাইরাল ইমিউনোলজি নিয়ে গবেষণা করা আকিকো ইওয়াসাকি বলেন, আপনি হয়তো ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়ে কেবল মৃদু অসুস্থ হয়েছেন। তারপর পূর্বে সংক্রমিত হয়ে বা টিকা নিয়ে আপনার শরীরে অ্যান্টিবডি থাকা সত্ত্বেও কিন্তু আপনি এমন একজনকে সংক্রমিত করতে পারেন, যিনি হয়তো খুব গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন। 

ওমিক্রনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবগুলো অজানা

আকিকো ইওয়াসাকি বলেন, ওমিক্রনে কি পরিমাণ সংক্রমণ হয় সেব্যাপারে আমাদের হাতে এখনো কোনো তথ্য নেই। যেসব মানুষ ভাবছেন ওমিক্রন ‘মৃদু’, তারা নিজেদেরকে হয়তো মাস বা বছরের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভোগার ঝুঁকিতে ফেলছেন।  

ওষুধ সরবরাহ পর্যাপ্ত  না থাকা

ওমিক্রনের ওষুধ খুবই সীমিত, তাই চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট পরিমাণ ওষুধ দিতে হয়। আগের ধরনগুলোতে ব্যবহৃত তিনটি ওষুধের মধ্যে দুটিই এই ধরনে অকার্যকর দেখা গেছে। আর তৃতীয় ওষুধ গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের (জিএসকে)  ‘সোট্রোভিম্যাব’ ওষুধটির পর্যাপ্ত সাপ্লাই নেই। ফাইজারের মুখে খাওয়ার নতুন ওষুধ প্যাক্সলোভিড  ওমিক্রনের বিরুদ্ধে কার্যকর। তবে আপনি অসুস্থ হলে চিকিৎসার অনুমোদন নাও থাকতে পারে।  

হাসপাতালগুলো রোগীতে উপচে পড়ছে

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইমিউনোলজির অধ্যাপক ডেভিড হো বলেছেন, ডাবল ডোজ এবং বুস্টার ডোজ নেওয়া ব্যক্তিরা ভালো আছেন এবং ওমিক্রন খুব বেশি ক্ষতি করতে পারছে না। তারপরও কম সংক্রমণ ভালো। বিশেষ করে এই মুহূর্তে, যখন হাসপাতালগুলো রোগীতে উপচে পড়ছে এবং ওমিক্রনের চলমান ঢেউ এখনো চূড়ায় পৌঁছায়নি।  

রেকর্ড সংক্রমণের কারণে হাসপাতালগুলোতে কিছু কিছু অস্ত্রোপচার এবং ক্যান্সার চিকিৎসা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আর আগের করোনা ঢেউয়ের সময় রোগীতে হাসপাতালগুলো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় হার্ট অ্যাটাকের মতো জরুরি রোগেরও ভালো চিকিৎসা দিতে পারেনি।  

বেশি সংক্রমণ মানে আরও নতুন ধরনের উদ্ভব

মূল সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ ধরন হলো  ওমিক্রন এবং এটির পরবর্তী রূপবদলের সক্ষমতা আরও ধীরে হবে কিনা তা দেখা এখনো বাকি। কিন্তু সংক্রমণের উচ্চহার ভাইরাসকে রূপবদলে সুযোগ দেয়। আর এটা নিশ্চিত করা বলা যায় না, করোনাভাইরাসের আরেকটি নতুন ধরন পূর্বের ধরনগুলো থেকে কম ক্ষতিকর হবে।   

হো বলেন, গত দুই বছর ধরে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসটি বিভিন্নভাবে আমাদেরকে বিস্মিত করেছে এবং এই ভাইরাসের বিবর্তনের গতিপথ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করার মতো কোনো উপায় আমাদের নেই।