করোনাভাইরাসের অতি সংক্রামক ধরন ওমিক্রনের বিরুদ্ধে ভ্যাক্সজেভরিয়া টিকাকে ‘কার্যকর’ হিসেবে দাবি করে অ্যাস্ট্রেজেনেকা কর্তৃপক্ষ বলছে, বুস্টার ডোজ হিসেবে এই টিকাটি ওমিক্রনসহ করোনাভাইরাসের অন্যান্য ধরনের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করছে।

বেশকিছুদিন ধরেই বুস্টার ডোজ হিসেবে ভ্যাক্সজেভরিয়ার টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সেই নিরীক্ষা পর অ্যাস্ট্রেজেনেকা কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার এই দাবি করেছে। খবর রয়টার্সের। 

অ্যাস্ট্রেজেনেকা কর্তৃপক্ষের দাবি, ভ্যাক্সজেভরিয়া করোনাভাইরাসের আরেক মারাত্মক ধরন ডেল্টার বিরুদ্ধেও দারুণ কার্যকর। ডেল্টা ধরনে আক্রান্ত রোগীদের রক্ত পরীক্ষার পর দেখা গেছে, যারা ভ্যাক্সজেভরিয়া বা অন্য যেকোনো এমআরএন টিকা নিয়েছেন, তাদের শরীরে খুব দ্রুত অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে। 

বিশ্বজুড়ে টিকাদান কর্মসূচিতে বুস্টার ডোজ হিসেবে কোন টিকাটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে এ নিয়ে যখন প্রশ্ন জোরালো হয়েছে, তখন অ্যাস্ট্রেজেনেকা তাদের টিকা নিয়ে এই দাবির কথা জানিয়েছে। তারা বলছে, বুস্টার ডোজের জরুরি প্রয়োজনে এই তথ্য টিকা কর্মসূচিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

গত বছর মার্চে ব্রিটিশ-সুইডিশ কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা ফার্মাসিউটিক্যালের উৎপাদিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ভ্যাক্সজেভরিয়া।

ইউরোপিয়ান মেডিসিন্স এজেন্সির (ইএমএ) তথ্য উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে টিকাটির নতুন নাম ঘোষণা করে সুইডেনের মেডিসিন এজেন্সি লাকেমেডেলসভেরকেট।

নাম পরিবর্তনের পর লেবেলিং ও মোড়কে পরিবর্তনসহ টিকাটির অন্যান্য বাহ্যিক পরিবর্তন ছাড়া গুণগত আর কোনো পরিবর্তন আসেনি।

এমআরএনএভিত্তিক ভ্যাকসিন বা ভ্যাক্সজেভরিয়ার দুটি শট-কোর্সের পর একটি বুস্টার ডোজ হিসাবে ভ্যাক্সজেভরিয়ার প্রতিরক্ষামূলক সম্ভাবনা ঠিক কতটা তা অবশ্য স্পষ্ট করে বলেনি অ্যাস্ট্রেজেনেকা। এমআরএনএভিত্তিক ভ্যাকসিনগুলো হল বায়োএনটেক-ফাইজার ও মডার্না।

অ্যাস্ট্রেজেনেকা বলছে, করোনার আরেক সংক্রামক ধরন বেটা ভেরিয়েন্টের বিরুদ্ধে বুষ্টার ডোজ ভ্যাক্সজেভরিয়া কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে চলছে নিরীক্ষা। নতুন বছরের প্রথমার্ধে আরও কিছু পরীক্ষার পর বেটা ভেরিয়েন্টের বিরুদ্ধে এই টিকার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন তথ্য দেওয়া যাবে। 

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অ্যাস্ট্রাজেনকার যৌথভাবে উদ্ভাবিত টিকাটির তিন ডোজের কার্যকারিতা নিয়ে গত মাসে গবেষণাগারে পরীক্ষা চালানো হয়। তাতে দেখা গেছে, দ্রুত সংক্রামক ওমিক্রন ঠেকাতে কাজ করছে প্রতিষেধকটি।

অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপের প্রধান অ্যান্ড্রু পোলার্ড এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, অ্যাস্ট্রোজেনেকার তিন ডোজ কিংবা দুই ডোজ এমআরএনএ বা নিষ্ক্রিয় টিকার পর অ্যাস্ট্রাজেনেকার বুস্টার নেওয়া হলে কোভিড-১৯ থেকে উচ্চ মাত্রার সুরক্ষা মিলছে।

গেল ডিসেম্বরে ব্রিটিশ এক ট্রায়ালে দেখা গেছে, তিন ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকা বা দুই ডোজ ফাইজারের পর অ্যাস্ট্রাজেনেকার বুস্টার ডোজে অ্যান্টিবডির পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে।

ফাইজার কিংবা মডার্নার বুস্টার ডোজেও যে শরীর কোভিড প্রতিরোধী হয়ে ওঠে, তাও উঠে আসে ওই গবেষণায়।

করোনা মহামারীর পর অ্যাস্ট্রেজেনেকা আড়াই কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ করছে।


 





.