হাতের স্পর্শ ছাড়া মাথার চারপাশে ফুটবল ঘুরিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা করে নিয়েছেন চট্টগ্রামের তরুণ মুনতাকিম উল ইসলাম। ৩০ সেকেন্ডে ২৭ বার বল ঘুরিয়ে এই রেকর্ড করেছেন তিনি। এর আগে রেকর্ডটি ছিল ২৫ বার। গিনেস কর্তৃপক্ষের ভাষায় এটাকে বলা হয় ‘অ্যারাউন্ড দ্য মুন ফুটবল কন্ট্রোল ট্রিকস ইন থার্টি সেকেন্ডস’।

এখানেই থামতে চান না মুনতাকিম। করতে চান ফুটবলের ফ্রি স্টাইলে নতুন নতুন রেকর্ড। এ জন্য নেমে পড়েছেন মাঠে। অব্যাহত রেখেছেন অনুশীলনও।

মুনতাকিমের বাবা শরিফুল ইসলাম মার্কেন্টাইল ব্যাংক চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখায় সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে কর্মরত। তিনি জানান, মুনতাকিম গত ছয় মাস ধরে দিনে দুই ঘণ্টা অনুশীলন করেছে। এই কঠোর পরিশ্রমের ফলও পেয়েছে তার ছেলে। ছেলে পড়াশোনায় কখনো ফাঁকি দেননি। তাই ছেলের পাশে ছিলেন সবসময়।

ব্যাংকার শরিফুল ইসলাম ও গৃহিণী শাহীনুর আক্তারের প্রথম সন্তান মুনতাকিম উল ইসলাম। তাদের বাড়ি ফেনী সদর থানার মধ্যম ধলিয়ায়। তবে তারা দুই দশক ধরে থাকেন চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ মুহুরীপাড়া উত্তরা আবাসিক এলাকায়। মুনতাকিম উল ইসলাম এবার চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে পাস করেছেন। 

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের পরিকল্পনা সম্পর্কে মুনতাকিম উল ইসলাম সমকালকে জানান, ২০২০ সালের শুরু থেকে করোনার প্রকোপের কারণে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন মুনতাকিম। আগে থেকে ফুটবল খেলতেন। করোনার দিনে বসে না থেকে বাসার ছাদে ও একটি কক্ষে ফুটবল নিয়ে ফ্রি স্টাইল অনুশীলন শুরু করেন। বাংলাদেশে যারা ফ্রি স্টাইল করে তাদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া শুরু হয় তার। তাদের পরামর্শ ও অনলাইন টিউটোরিয়ালের সহায়তায় আস্তে আস্তে ফ্রি স্টাইল রপ্ত হয়। এরপর ফ্রি স্টাইলে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড থাকা চট্টগ্রামের আশরাফুল ইসলাম জোহান ও নোয়াখালীর কনক কর্মকারের বিভিন্ন পরামর্শ নেন তিনি। ২০২১ সালের ১৯ মে গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। তারা মানদণ্ড বেঁধে দেন। তাদের মানদণ্ড অনুযায়ী ফ্রি স্টাইলের ভিডিও করে ২১ জুন গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান তিনি। গত ৩০ নভেম্বর বিশ্ব রেকর্ড হওয়ার সুসংবাদটি পান। ২৯ ডিসেম্বর গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিশ্ব রেকর্ডের সনদ পান মুনতাকিম। অবশ্য পরদিন তার জন্য আরও বড় সুসংবাদ অপেক্ষা করছিল। ওইদিন এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে পাস করেন।

মুনতাকিম উল ইসলাম বলেন, ‘হাতের স্পর্শ ছাড়া মাথার চারপাশে ফুটবল ঘোরানো আমার প্রিয় একটি কৌশল। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ফ্রিস্টাইলিং করে আসছি আমি। বাংলাদেশে সর্বোচ্চ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডধারী ফ্রিস্টাইল ফুটবল খেলোয়াড় হচ্ছেন কনক কর্মকার ও আশরাফুল ইসলাম জোহান। তাদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছি। পড়াশোনা ঠিক রাখায় মা-বাবারও সাপোর্ট ছিল। তাই ধরা দিয়েছে সফলতাও।’

তবে এখনই থামতে চান না এই তরুণ তুর্কি। তিনি বলেন, ‘এখানেই থামার পরিকল্পনা নেই আমার। দেশকে গর্বিত করতে আরও গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের অধিকারী হওয়ার স্বপ্ন দেখি আমি।’

পড়াশোনা করে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন মুনতাকিমের। পাশাপাশি ফুটবলের ফ্রি স্টাইলিংকেও সঙ্গে রাখতে চান। নামকরা কলেজে ভর্তি হতে নিচ্ছেন প্রস্তুতিও। এখানেও সফল হবেন বলে প্রত্যাশা তার।