মেয়াদ দ্রুত ফুরিয়ে আসায় গত ডিসেম্বরে দরিদ্র দেশগুলো টিকা বিতরণের বৈশ্বিক জোট কোভ্যাক্সের ১০ কোটির ডোজেরও বেশি টিকা বাতিল করেছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। 

ইউনিসেফের সরবরাহ বিভাগের পরিচালক এটলেভা কাডিলি গত বৃহস্পতিবার ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদের এ কথা জানান। খবর রয়টার্সের।

ইউনিসেফ বলছে, কোভ্যাক্সের আওতায় দরিদ্র দেশগুলোতে টিকার পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও তা সংরক্ষণ করতে না পারায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে ওই দেশের সরকারকে।

কাডিলি বলেন, দরিদ্র দেশগুলোতে  এই বছরের অর্ধেকের বেশি সময় জুড়ে টিকা দেওয়ার মতো ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছিল। এখন তারা সেই টিকা আমাদের ফিরিয়ে দিতে চায়। 

বিশ্বজুড়ে গণটিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ করতে গিয়ে যখন টিকার সঙ্কটের কথা জানাচ্ছে বিভিন্ন দেশ, তখন কোভ্যাক্স ১৫০টি দেশে ১০০ কোটি ডোজ সরবরাহ করেছে বলে দাবি জানিয়েছে।

এটলেভা কাডিলি বলেন, টিকা বাতিল করার মূল কারণ হল খুব স্বল্প মেয়াদী টিকা সরবরাহ করা হয়েছিল। দরিদ্র দেশগুলোতে টিকা সংরক্ষণের জন্য যথাযথ ও পর্যাপ্ত ফ্রিজিং ব্যবস্থা না থাকায় কোভ্যাক্সের টিকা পাঠানোর কর্মসূচিও বিঘ্নিত হয়েছে।

তিনি বলছেন, দরিদ্র দেশগুলোতে অনেক মানুষ করোনার টিকা নিতে দ্বিধাদ্বন্দে ভুগছে যা তাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক চাপ ফেলেছে।

কোভ্যাক্সের টিকা বিতরণ কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর কী পরিমাণ টিকা বাতিল হয়েছে তা এখনও জানায়নি ইউনিসেফ।

ইউনিসেফ বলছে, বিশ্বের ৯০টি দরিদ্রতম দেশে এখন ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডোজ টিকা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সেবাদাতা সংস্থা কেয়ার জানিয়েছে, কঙ্গো ও নাইজেরিয়াসহ আরও ৩০টি দরিদ্র দেশে কোভ্যাক্স যত টিকা পাঠিয়েছে, তার অর্ধেকেরও কম টিকা তারা নাগরিকদের দিতে পেরেছে।

কোভ্যাক্সের টিকা বিতরণে সহযোগী গাভি বলছে, চলমান সঙ্কট নিরসনে এখন বেশিদিন মেয়াদী টিকা সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দরিদ্র দেশগুলোর টিকা সংরক্ষণ সক্ষমতারও দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় কোভ্যাক্স ১৪৪টি দেশে ৯৮ কোটি ৭০ লাখ টিকা সরবরাহ করেছে।

করোনার টিকা আবিস্কারের পর ধনী দেশগুলো টিকা নিজেদের জিম্মাতেই রেখে দিচ্ছিল। টিকার জন্য পৃথিবীর দরিদ্র দেশগুলো চাহিদা জানাতে থাকলে দেখা দেয় সঙ্কট। তখন টিকা উৎপাদনকারীর দেশগুলোকে নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জাতিসংঘ কোভ্যাক্স জোট গঠন করে টিকা পাঠানোর কর্মসূচি হাতে নেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বছর জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ধনী দেশগুলোর প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষকে টিকার পূর্ণাঙ্গ ডোজ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। উল্টো দিকে দরিদ্র দেশগুলোতে ৮ শতাংশ মানুষকে কেবল প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া গেছে। 

এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বেশকটি দেশ  অ্যাস্ট্রেজেনেকার স্বল্পমেয়াদী ১ কোটি ৫০ লাখ ডোজ  প্রত্যাখান করেছে বলেও জানান তিনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একজন ঊর্ধ্বতন কমর্কর্তা রয়টার্সকে বলেন, বিশ্বের ধনী দেশগুলো থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া স্বল্পমেয়াদী এসব টিকা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেনিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এমবুরুগু গিকুন্ডা বলেন, ‘এখন নতুন করে কোনো ভ্যাকসিন নিতে পারছি না আমরা। কারণ আগে থেকে পাওয়া ভ্যাকসিন বিতরণ করা হয়নি। সেগুলোর মেয়াদ প্রায় শেষ। সেগুলো যত দ্রুত সম্ভব আমরা ওষুধ ভাণ্ডার থেকে সরাতে চাই।’

গত ডিসেম্বরে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরে নাইজেরিয়ায় দশ লাখ ভ্যাকসিনের মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে।