করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রুখতে সরকার সারাদেশে ৫টি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। নির্দেশনায় সারাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ করার পাশাপাশি সব ধরণের জনসমাগমে মাস্ক ব্যবহারের কঠোরতা আরোপের কথা জানিয়েছে সরকার। 

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২১ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনুরূপ ব্যবস্থা নেবে।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এক অনুষ্ঠানে জাহিদ মালেক বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ কিছুটা কমে আসায় আমরা স্কুল-কলেজ, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু করেছিলাম। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, স্কুল-কলেজে সংক্রমণের হার বেড়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে... ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিতে আসছে। এটা আশঙ্কাজনক। এমন অবস্থায় আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে আগামী দুই সপ্তাহ আমরা স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরে পরিস্থিতি বুঝে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

গত ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে সংক্রমণের শতকরা হার ছিল ২৬ দশমিক ৩৭ ভাগ, যা গত সপ্তাহের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি। করোনাভাইরাসে অতি সংক্রামক ধরন ওমিক্রনেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সারাদেশে এখন ৬২ জন ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগী রয়েছে বলে জানা গেছে গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটা -জিএসএআইডির ডেটা থেকে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় মাস্ক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা জারি করে বলা হয়েছে, বাজার, মসজিদ, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশনসহ কসব ধরণের জনসমাবেশে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি মনিটর করবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিস্তার রোধে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণের প্রস্তাবসহ সরকারকে পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছিল কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। 

পরে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন রাজধানীর সড়কে চলাচলকারী মানুষকে মাস্ক বিতরণ ও মাস্ক পরতে বাধ্য করার কর্মসূচি হাতে নিলেও তা আদতে কাজে আসছে না। 

সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তরুণদের মধ্যেই মাস্ক না পরার প্রবণতা বেশি। কারণ জানতে চাইলে তারা বলছেন, তাড়াহুড়োয় মাস্ক নিতে ভুলে গেছেন, পথে হারিয়ে ফেলেছেন বা ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে ফেলে দিয়েছেন। তবে তাদের বেশিরভাগের অজুহাত ছিল ঠুনকো। প্রকৃতপক্ষে করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বগামী হলেও তাদের মধ্যে এটা নিয়ে সচেতনতা নেই।

জরুরি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয়-সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় সমাবেশ, অনুষ্ঠানগুলোতে ১০০ জনের বেশি সমাবেশ করা যাবে না। এসব ক্ষেত্রে যারা যোগ দেবেন, তাদের অবশ্যই ভ্যাকসিন সনদ বা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর সার্টিফিকেট আনতে হবে। 

এছাড়াও সরকারি, বেসরকারি অফিস,শিল্প কারখানাগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবশ্যই ভ্যাকসিন সনদ গ্রহণ করতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দেশের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘রাজধানীতে ৩৩ শতাংশ মানে প্রায় এক তৃতীয়াংশ কোভিড শয্যাতেই এখন অসুস্থ রোগী। রোগীরা অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। এ অবস্থা তো আশঙ্কাজনক।’