যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানোর পরই ক্রিমিয়া ও ইউক্রেন সীমান্তে ৬০টি যুদ্ধবিমান নিয়ে নতুন সামরিক মহড়া শুরু করেছে ছয় হাজার রুশ সেনা। উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সাড়ে আট হাজার সেনাকে স্বল্প সময়ের নোটিশে যুদ্ধে পাঠানোর জন্য সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে পেন্টাগন ঘোষণা দেওয়ার পরদিন গতকাল মঙ্গলবার এ মহড়া শুরু হয়।

এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে মস্কোপন্থি বিদ্রোহীদের আক্রমণ প্রস্তুতি নস্যাতের দাবি করেছে কিয়েভ। সংকট সমাধানের সম্ভাব্য কূটনৈতিক উপায় খুঁজতে গতকাল বার্লিনে বৈঠক করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোন ও জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলস। আজ প্যারিসে রাশিয়া, ইউক্রেন ও জার্মানির কর্মকর্তারা আলোচনা করবেন। খবর রয়টার্স ও সিএনএনের।

সোমবার পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি জন কিরবি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যরা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে সেনা মোতায়েনে সিদ্ধান্ত নিলে অথবা রাশিয়ার সেনা মোতায়েন ঘিরে অন্য কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হলে, তবেই যুক্তরাষ্ট্র সেনা পাঠাবে।' তবে তাদের ইউরোপে মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। তিনি আরও বলেন, 'ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এককভাবে ইউক্রেনে সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে সেনাবাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রাখার পদক্ষেপটি মূলত ন্যাটোর মিত্রদের আশ্বস্ত করার জন্যই নেওয়া।'

পরে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'উত্তেজনার মধ্যে প্রতিরোধের প্রস্তুতি হিসেবে সামরিক অনুশীলন করছে সাউদার্ন মিলিটারি ডিস্ট্রিক। কৌশলগত অনুশীলনে সমন্বিত সহায়তাসহ বৃহৎ পরিসরে কাজের জন্য সেনা ইউনিটগুলো মহড়া দিচ্ছে।'
এদিকে, গতকাল কিয়েভ এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের নিরাপত্তা বাহিনীর অবকাঠমোয় 'সিরিজ হামলার পরিকল্পনা' নস্যাৎ করা হয়েছে। এতে জড়িত থাকার অভিযোগে দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত বছরের শেষ দিকে ইউক্রেন সীমান্তে লক্ষাধিক সেনা ও ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করে রাশিয়া। এরপর থেকে পশ্চিমা এবং ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলে আসছে, এ বছরের শুরুর দিকেই কোনো এক সময় অভিযানের পরিকল্পনা করেছে মস্কো। যদিও শুরু থেকে সে অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ক্রেমলিন।

সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তাদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি যৌথ কৌশল নির্ধারণ। বাইডেন ভিডিও কলে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাক্রোন, জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি, পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রয়েজ দুদা, ন্যাটো প্রধান জেনস স্টোলটেনবার্গ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতা উরসুলা ফন দেয়ার লায়েন ও চার্লস মিশেলের সঙ্গে কথা বলেন। পরে বাইডেন বলেন, 'আমরা খুবই খুবই খুবই ভালো আলোচনা করেছি- ইউরোপের সব নেতা একই সুরে কথা বলেছেন।