পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগমুহূর্তে পেগাসাস ইস্যুতে অস্বস্তিতে পড়েছে ভারতের মোদি সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে (এনওয়াইটি) গত শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে- ইসরায়েলি সংস্থা এনএসওর তৈরি বিতর্কিত পেগাসাস স্পাইওয়্যার ভারতের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল।

২০১৭ সালে একটি সামরিক চুক্তির আড়ালে পেগাসাস স্পাইওয়্যার কেনাবেচা করেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নিজ দেশের জনগণের ওপর নজরদারি করার জন্যই দুই বিলিয়ন ডলারে এই সফটওয়্যার কেনেন মোদি।

'বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সাইবার অস্ত্রের লড়াই' শীর্ষক প্রকাশিত ওই তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে যে কোনো অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন বা আইফোন থেকে গোপন তথ্য সহজেই হাতিয়ে নেওয়া যায়। তবে এখন পর্যন্ত এ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেনি ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার।

এদিকে এ খবর প্রকাশিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীকে ধুয়ে দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। মোদি সরকার দেশ এবং দেশবাসীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

জাতীয় রাজনীতিতে এমনিতেই ইমেজ সংকটে ভুগছে বিজেপি। এর মাঝে পেগাসাস কেলেঙ্কারির খবর সামনে আসার পর চরম অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি সরকার। এনওয়াইটির প্রতিবেদনে বলা হয়, হিন্দু জাতীয়তাবাদে ভর করে ভারতের মসনদে বসেছেন মোদি। প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে সরকারি সফরে ইসরায়েল যান তিনি। মোদির ইসরায়েল সফর উল্লেখযোগ্যভাবে 'আন্তরিক' ছিল। ওই সফরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে খালি পায়ে স্থানীয় সৈকতে হেঁটেছিলেন তিনি, যা অত্যন্ত সচেতনভাবে আয়োজন করা হয়েছিল। এই সৌহার্দ্যের পেছনে যথেষ্ট কারণও ছিল। সে সময় দুই দেশই অত্যাধুনিক হাতিয়ার এবং ব্যবস্থাপনার আদান-প্রদান ও বিক্রিতে ঐকমত্যে পৌঁছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের ওই চুক্তিতে প্রধান পণ্য ছিল পেগাসাস স্পাইওয়্যার। অর্থাৎ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি সফরে পেগাসাস স্পাইওয়্যার কেনার বিষয়টি পাকা হয়েছিল। এরই মধ্যে এ ঘটনার তদন্তে প্যানেল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের শীর্ষ আদালত।

এদিকে এই পেগাসাস ইস্যুতে মোদি সরকার দেশদ্রোহ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন রাহুল গান্ধী। সামাজিক মাধ্যমে সরকারকে আক্রমণ করে তিনি লিখেছেন- 'মোদি সরকার পেগাসাস কিনেছিল দেশের নেতাদের এবং জনসাধারণের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করার উদ্দেশ্যে। তাদের ফোনে আড়ি পাতা হয়েছে। বিরোধী দল এবং আদালতকে নিশানা করেছে ক্ষমতাসীন দল। এটা দেশদ্রোহ। মোদি সরকার দেশদ্রোহ করেছে।'

এ ছাড়া মোদি সরকার দেশের বিরোধী রাজনৈতিক নেতা এবং সাংবাদিকদের ফোনে আড়ি পাতে বলে আরও আগেই অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে বলেন, 'পেগাসাস নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বড়সড়ো বিপদে পড়তে চলেছে। একটি সরকার দেশের কাজ না করে বিরোধীদের ফোনে আড়ি পাতছে- এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনা।