‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনামলে ভুল পররাষ্ট্রনীতির কারণে পাকিস্তান ও চীন এককাট্টা হয়েছে’  লোকসভায় রাহুল গান্ধীর এ বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস। বুধবার রাহুল গান্ধীর ওই বক্তব্যের পর বৃহস্পতিবার তিনি এ কথা বললেন। 

পাকিস্তান ও চীনের সম্পর্কের বিষয়ে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকরা নেড প্রাইসকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি এ ধরনের বক্তব্যকে সমর্থন করি না।


প্রাইস বলেন, আমেরিকার কৌশলগত সহযোগী অংশীদার পাকিস্তান। চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট দুই দেশের উপরেই ছেড়ে দিতে চাই। আমরা মনে করি, চীন এবং আমেরিকার মধ্যে কোনো একটিকে বন্ধু হিসেবে বেছে নেওয়া কোনো দেশের কাছেই বাধ্যতামূলক নয়।

বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক মহলের একাংশের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, নয়াদিল্লির ধারাবাহিক বিরোধিতা সত্ত্বেও জো বাইডেন সরকার যে ইসলামাবাদের পাশেই থাকবে, প্রাইসের বক্তব্যে তা স্পষ্ট।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে আগের দিন রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, মোদির শাসনামলে ভুল পররাষ্ট্রনীতির কারণে পাকিস্তান ও চীন এককাট্টা হয়েছে। এতদিন ভারতের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্যই ছিল চীন ও পাকিস্তানকে আলাদা রাখা। এখন চীন ও পাকিস্তান এককাট্টা হয়ে গেছে। এতদিন ভারতের দুই সীমান্তে দু’টি লড়াইয়ের ক্ষেত্র থাকলেও এখন সেটাই নিরবচ্ছিন্ন সীমান্তের লড়াই হয়ে উঠেছে। ভারত পররাষ্ট্রনীতিতে একেবারে বিচ্ছিন্ন এবং সে কারণেই প্রজাতন্ত্র দিবসে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রনেতাকে অতিথি হিসেবে পাওয়া যায়নি। 

তার এ বক্তব্যের পরই কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জবাব দিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। রাহুলকে ‘ইতিহাসের পাঠ’ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭০ সালে চীন, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে কারাকোরাম হাইওয়ে তৈরি করেছিল। তখন থেকেই দু’দেশের মধ্যে পরমাণু সমঝোতা চলছে। ২০১৩ সালে চীন-পাকিস্তান আর্থিক করিডরের কাজ শুরু হয়েছে। তা হলে নিজেকে প্রশ্ন করুন, চীন-পাকিস্তানের মধ্যে কি তখন দূরত্ব ছিল?


প্রজাতন্ত্র দিবসে বিদেশি রাষ্ট্রনেতাকে অতিথি হিসেবে পাওয়া যায়নি- এ বক্তব্যের জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, ভারতে যারা থাকেন, সকলেই জানেন, করোনার ঢেউ চলছে। মধ্য এশিয়ার যে পাঁচটি দেশের প্রেসিডেন্টের ভারতে আসার কথা ছিল, তারা ২৭ জানুয়ারি ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। রাহুল কি এটাও জানেন না?