ইউরোপীয় ইউনিয়নে রাশিয়ার দূত ভ্লাদিমির চিজভ বলেছেন, এখনও রাশিয়া মনে করে কূটনীতি ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে তিনি এ কথা বলে।

রুশ এ কূটনীতিক বলেন, কারও উপর আক্রমণ করার ইচ্ছা মস্কোর নেই। তবে সতর্কতার বিষয় হলো— উসকানি না দেওয়াটাও ‍গুরুত্বপূর্ণ, যাতে রাশিয়াকে তার মন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে না হয়।

ইউক্রেন ইস্যুতে উত্তেজনা কমাতে সোম ও মঙ্গলবার নানা ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতার পর এ বক্তব্য এলো।

এদিকে ইউক্রেনে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়ে আসছিল রাশিয়া। কিন্তু ইউক্রেনের সীমান্তে এক লাখেরও বেশি রুশ সেনা অবস্থান করছে। ফলে পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যে কোনো সময় ইউক্রেনে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া।

এর আগে ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করে নেয় রাশিয়া। এর পর থেকে পূর্ব ইউক্রেনে সংঘাত চলছে। ওই এলাকার অধিকাংশ অংশ নিয়ন্ত্রণ করে রুশ সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এবং অন্তত সেখানে ১৪ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাশিয়া বেলারুশে ১০ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করতে চলেছে। দেশটি রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ ও ইউক্রেনের প্রতিবেশী। এ মহড়ায় রাশিয়ার অন্তত ৩০ হাজারের মতো সেনা অংশ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্রেমলিনের এক মুখপাত্র এ বিষয়ে বলেন, যৌথ সামরিক মহড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হুমকির প্রকৃতি আগের চেয়ে গুরুতর।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের রুশ দূত চিজভ বলেন, মহড়া শেষে বেলারুশে থাকা রুশ সেনারা তাদের স্থায়ী ঘাঁটিতে ফিরে যাবেন।

এ মহড়ার বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জেন সাকি বলেন, এ অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সামরিক মহড়াটি ‘বাড়তি’ পদক্ষেপ।

টানা দুই দিন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কূটনৈতিক তৎপরতার পর মিনস্ক চুক্তিকে ইউক্রেনের উত্তেজনা নিরসনে ব্যবহার করার পরামর্শ এসেছে। যে চুক্তি পূর্ব ইউক্রেনে সংঘাত বন্ধ করতে চেয়েছিল।

এদিকে রাশিয়া ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে কিনা সে বিষয়ে কিছু বলেননি চিজভ। তবে তিনি প্রশ্ন করেন, কেন কেউ সরাসরি রাশিয়ার মুখোমুখি ইউক্রেনের সেনাদের সংখ্যা নিয়ে কথা বলছে না।

তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এখনও আলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক ফল মিলতে পারে।

চিজভ বলেন, আমরা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করি এখনও কূটনীতির সুযোগ রয়েছে।

ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্য বানানো যাবে না— এ দাবি রাশিয়ার। কিন্তু এটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে।

যদিও রাশিয়ার দূত চিজভ মনে করেন, এখনও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু হচ্ছে ন্যাটোর সম্প্রসারণ নীতি। তিনি বলেন, আমরা এটি ভুলব না এবং এটি ভুলে যেতে পারি না।

ইউক্রেনকে নিয়ে উত্তেজনা কীভাবে কমানো যায় সে বিষয়ে আলোচনার জন্য ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ মস্কো, কিয়েভ ও বার্লিন সফর করেছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মঙ্গলবার বৈঠক শেষে ম্যাক্রোঁ বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতারা মিনস্ক শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে পুনরায় নিজেদের প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন।

এদিকে বুধবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ইউক্রেন সংকটের সমাধান মিনস্ক চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে হতে পারে।

এর আগে মঙ্গলবার বার্লিনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ফ্রান্স, জার্মানি ও পোল্যান্ডের নেতারা উত্তেজনা কমাতে মিনস্ক চুক্তির বাস্তবায়ন ও ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের প্রতি নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।