ভারতের উত্তরপ্রদেশে সাত ধাপের নির্বাচনের প্রথম ধাপে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে উত্তরপ্রদেশের ভোটের এই লড়াইকে সেমি ফাইনাল হিসেবে দেখা হচ্ছে। কৃষক আন্দোলন এবং করোনা মোকাবিলায় ক্ষমতাসীনদের ভূমিকাসহ নানা কারণে এই নির্বাচন বিজেপির জন্য বিরাট এক পরীক্ষা। এই নির্বাচনের ফলাফলই নির্দেশ করবে বর্তমান বিজেপি সরকারের ভারতে ভবিতব্য কি।

এদিন প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলের বিধানসভার গুরুত্বপূর্ণ ৫৮টি আসনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০২০ সালের শেষের দিকের বিতর্কিত কৃষি আইনবিরোধী আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র ছিল এই উত্তরপ্রদেশ। এখানে চতুর্মুখী লড়াই হবে। খবর এনডিটিভি। 

উত্তরপ্রদেশে ২০১৭ সালে বিজেপি বিপুল ব্যবধানে জিতেছিল। চলমান নির্বাচনকে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সরকারের ওপর গণভোট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ প্রদেশটিতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা নিয়ে প্রাদেশিক সরকারের ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। কারণ দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালীন প্রদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে করোনা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। করোনায় মারা যাওয়া অসংখ্য মানুষের মরদেহ গঙ্গায় ভেসে যাওয়া এবং গঙ্গা পাড়ে সমাহিতের ছবি পুরো ভারতকে হতবাক করে দিয়েছিল। 

ভোটের হিসাবে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে দেখা হচ্ছে ২০২০ সাল থেকে হওয়া বিতর্কিত কৃষি আইন বিরোধী আন্দোলনকেও। ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৫৮টি সিটের ৯১ শতাংশে বিজেপি জিতেছিল। কিন্তু কৃষি আইন নিয়ে দীর্ঘ আন্দোলনের পর চলতি নির্বাচনে কৃষকদের প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে বলে অনেকের ধারণা। এ ছাড়া কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইত বিজেপিকে শায়েস্তা করার আহ্বানও জানিয়েছেন। তার ওই আহ্বানের পর কৃষক ইউনিয়নগুলির সহযোগী সংগঠন সম্মিলিত কিষাণ মোর্চাও একই ধরনের আওয়াজ তুলেছে। 

উত্তরপ্রদেশে বিজেপির জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন বিভিন্ন জাতি, বর্ণ গোষ্ঠীর নিয়ে গঠিত রাজনৈতিক জোট (রামধনু কোয়ালিশন) নেতা ও সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব। ছোট ছোট দলের পাশাপাশি মুসলিমদের মধ্যে তার নিজের একটি সমর্থক গোষ্ঠী আছে। এর ধারাবাহিকতায় অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যেও তার প্রভাব তৈরি হয়েছে। আর তার প্রধান মিত্র রাষ্ট্রীয় লোক দলের জয়ন্ত চৌধুরী। ৩০টিরও বেশি আসনে জয়ন্তের সমর্থকরা প্রভাব রাখতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।  

অন্যদিকে এই নির্বাচনকে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর জন্যও পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চার বছর আগে তার ভাই রাহুল গান্ধী প্রিয়াঙ্কাকে উত্তরপ্রদেশে জেতাতে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এই নির্বাচনে বহুজন সমাজ পার্টিও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। উত্তরপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীর এই দলটির দলিতদের মধ্যে বেশ প্রভাব এবং অন্তত ২০টি আসনের ফলাফলে তিনি ভূমিকা রাখতে পারেন। 

প্রথম ধাপের এই নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে পরিচিত মুখ হলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ছেলে নয়ডার বর্তমান বিধায়ক পঙ্কজ সিং এবং আগ্রা রুরাল থেকে লড়া উত্তরাখণ্ডের সাবেক গভর্নর বেবি রানী মৌর্য।

এদিকে ভোট শুরুর এক ঘণ্টা পর শ্যামলী জেলার ম্যাজিস্ট্রেট জসজিত কৌর বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেছেন, তারা ইভিএম মেশিন নিয়ে কিছু অভিযোগ পেয়েছেন এবং সেই মেশিনগুলো পরিবর্তনও করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চলছে। কোথাও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।  

আগামী ১০ মার্চ এই ভোটের ফল ঘোষণা করা হবে। একইদিন গোয়া, মনিপুর, পাঞ্জাব এবং উত্তরাখণ্ডের ফল ঘোষণা করা হবে।