দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন বলেছেন, যদি উত্তর কোরিয়া পুনরায় পরমাণু বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা শুরু করে তবে কোরীয় উপদ্বীপ ‘সঙ্গে সঙ্গে’ সংকটে নিমজ্জিত হবে। সংলাপ এবং কূটনীতি এ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতে পারে।

বৃহস্পতিবার সিউলে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। খবর আলজাজিরার।

জানুয়ারিতে রেকর্ডসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। একই সঙ্গে দেশটির নেতা কিম জং উন ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি নতুন পরমাণু বা আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম) পরীক্ষার আদেশ দিতে পারেন।

লিখিত বক্তব্যে মুন বলেন, যদি কিম জং উনের স্ব-আরোপিত স্থগিতাদেশ লঙ্ঘন করে উত্তর কোরিয়া বারবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায় তবে তা সঙ্গে সঙ্গে কোরীয় উপদ্বীপকে পাঁচ বছরের আগের অবস্থায় নিয়ে যাবে। সে সময় এ উপদ্বীপে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। এমন পরিস্থিতি থেকে এ উপদ্বীপকে রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নেতাদের অবশ্যই সংলাপ এবং কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

পিয়ংইয়ং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি মুনের জন্য ধাক্কা হয়ে এসেছে। আসছে মার্চে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং মুন তার পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ করে কার্যালয় ছাড়বেন মে মাসে।

মুন স্বীকার করেছেন, তার সময় ফুরিয়ে এসেছে। তিনি দায়িত্ব ছাড়ার আগে কিম জং উনের সঙ্গে শীর্ষ সম্মেলন বা কোরীয় যুদ্ধের অবসান ঘোষণা নিয়ে তার প্রস্তাব গ্রহণ করার সম্ভাবনাও কম।

২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়া পরমাণু ও আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো নিয়ে কিম জং উন ও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। যা সে সময় যুদ্ধের শঙ্কা ছড়ায়।

মুন বলেন, সামরিক সংঘর্ষের চেয়ে কূটনীতি ও সংলাপের দিকে দিক পরিবর্তনে সহায়তা তার সবচেয়ে বড় অর্জন। সবচেয়ে বড় আক্ষেপ হলো— ভিয়েতনামের হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সম্মেলন ব্যর্থ হয়ে যাওয়া। 

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, যদি উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ফের আলোচনা শুরু করে এবং দেশ দুটির নেতারা বৈঠক করেন তবে আমি আশা করি তারা কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ, শান্তি প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন ও উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিতে পৌঁছাতে পারবেন।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সুহ উক যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনালাপে বলেন, উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাগুলো ‘সরাসরি ও গুরুতর হুমকি’ তৈরি করেছে।

এদিকে বাইডেন প্রশাসন জানাচ্ছে, তারা উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের পূর্ব শর্ত ছাড়াই বৈঠকে বসতে আগ্রহী।

অরপদিকে পিয়ংইয়ং বলছে, ওয়াশিংটন ও সিউল সামরিক মহড়া ও নিষেধাজ্ঞার মতো ‘প্রতিকূল নীতি’ পরিহার না করা পর্যন্ত পিয়ংইয়ং কোনো বৈঠকে বসবে না।