ইউক্রেনে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার পর মানবিক সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য এক হাজার সেনাকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ন্যাটো ও পোল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে বরিস জনসনের সাক্ষাতের আগে এ আদেশ দেওয়া হয় বলে জানায় বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

ন্যাটোর নীতিতে দৃঢ় থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিতে এবং ইউক্রেনের সীমান্তে রুশ সেনা সমাবেশের সময় ব্রিটেন কীভাবে সামরিক সহায়তা দিতে পারে সে বিষয়ে আলোচনার জন্য ব্রাসেলস ও ওয়ারশ যাচ্ছেন জনসন।

ইউক্রেন ইস্যুতে জনসনের এ সফরও আন্তর্জাতিক কূটনীতির অংশ। এর আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। আর আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস মার্কিন মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

এদিকে ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাশিয়ার সম পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য মস্কো সফর করবেন বলে জানা গেছে।

এক বিবৃতিতে জনসন বলেন, ইউরোপীয় নিরাপত্তার প্রতি আমাদের যে অঙ্গীকার এতে যুক্তরাজ্য অটল রয়েছে। জোট হিসেবে আমাদের অবশ্যই স্পষ্ট হতে হবে, যে নীতিগুলো রয়েছে তার সঙ্গে আমরা আপস করব না।

এর আগে ব্রিটেন জানিয়েছিল, পোল্যান্ডে ৩৫০ জন সেনা পাঠাবে। গত বছর বেলারুশের সঙ্গে শরণার্থী সংকট চলাকালে পোল্যান্ডে একশ’ সেনা পাঠিয়েছিল যুক্তরাজ্য।

জনসনের কার্যালয় থেকে বুধবার পুনরায় বলা হয়, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা বহু মানুষকে বাস্তুচ্যুত করবে। যার প্রভাব পড়বে পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ায়। এর আগে ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করে নেয় রাশিয়া।

ইউক্রেনের সীমান্তে রাশিয়ার প্রায় এক লাখ সেনা সমাবেশের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ আশঙ্কা করছে, মস্কো হয়তো কিয়েভে হামলা চালাতে পারে।

যদিও রাশিয়া ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। কিন্তু দেশটি ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করেছে।

মস্কো আরও একটি বিষয়ের নিশ্চয়তা চায়। সেটি হলো—সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো তার সম্প্রসারণ কার্যক্রম বন্ধ করবে। কিন্তু ওয়াশিংটন ও ন্যাটো রাশিয়ার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।