ইউক্রেনে বৃহস্পতিবার সকালে আক্রমণ চালিয়েছে রাশিয়া। সকালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে দেশটির সেনারা ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করে। পরিস্থিতি এতো দ্রুত বদলেছে যে আক্রমণ শুরুর পর ইউক্রেনের ভূমিতে সত্যি কী ঘটেছে তা খুব স্পষ্ট নয়, কোন কোন ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর। তারপরও এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যা জানা গেলো, চলুন সেগুলো এক নজর দেখে নেওয়া যাক। 

রাশিয়ার সৈন্যরা ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে ইউক্রেনে আক্রমণ চালিয়েছে। এর মধ্যে রুশপন্থি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা দনবাস থেকে ইউক্রেনের পূর্ব দিকে, বেলারুশ থেকে উত্তরে এ্বং ক্রিমিয়া থেকে দেশটির দক্ষিণ অংশে আক্রমণ চালানো হয়। ইউক্রেনে রুশ আক্রমণ নিয়ে বিবিসি অনলাইনের দেওয়া লাইভ আপডেটে এসব তথ্য জানানো হয়। 

বিবিসি জানিয়েছে, রাশিয়ার সৈন্যদের প্রতিহত করতে ইউক্রেন সেনারাও লড়ছেন। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্রে দুই পক্ষের সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষ চলছে। ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভের বাসিন্দারা বলেছেন, দুই পক্ষের ক্রমাগত গুলিবর্ষণ এবং বিস্ফোরণে অ্যাপর্টমেন্টের বিভিন্ন ব্লকের জানালাগুলো কাঁপছে। 

রাজধানী কিয়েভের একটি চিত্র। ছবি: বিবিসি

এ ছাড়া রাজধানীর  উত্তরের বিভিন্ন স্থানে, কৃষ্ণ সাগরের পোর্ট সিটি ওডেসা এবং দক্ষিণের ম্যারিউপোলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হচ্ছে। এ দিকে ইউক্রেনের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বিমান হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া এবং কিয়েভের প্রধান বিমানবন্দরের আশপাশে ব্যাপক সংঘর্ঘের খবর পাওয়া গেছে। 

ইউক্রেনের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা অন্তত ছয়টি রাশিয়ান বিমান ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে রাশিয়া দাবি করেছে, তারা ইউক্রেনের ৭০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে আক্রমণ চালিয়ে ধ্বংস করেছে। 

রাশিয়ার আক্রমণ শুরুর পর অসংখ্য ইউক্রেনীয় আশ্রয় নিতে দেশটির বড় শহরগুলো ছেড়ে আশপাশের এলাকায় আশ্রয়ে ছুটছে। কিয়েভ থেকে হাজার হাজার মানুষ পালাচ্ছে। কিয়েভে জারি করা হয়েছে কারফিউ। তবে প্রাণহানির বিষয়ে বিবিসির এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

যদিও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রশাসনিক সহকারী ওলেকসি আরেস্টোভিচের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটির ৪০ সেনাসদস্য এবং অন্তত ১০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আরেস্টোভিচ। 

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে পুতিন বলেন, তিনি ইউক্রেনে আক্রমণ চালাতে রুশ সেনাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ইউক্রেনে ন্যাটোর অনধিকারপ্রবেশে রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছিল। 

এ ছাড়াও তিনি বলেন, ইউক্রেনের হামলা থেকে রুশপন্থি বিদ্রোহীদের দখলে থাকা দোনেৎস্ক এবং লুহানেস্ক রক্ষা করা রাশিয়ার কতর্ব্যের মধ্যে পড়ে। এর আগে গত সোমবার দোনেৎস্ক এবং লুহানেস্ককে স্বীকৃতি দেয় মস্কো।