ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার ১৫তম দিনে তুরস্কের আন্তালিয়ায় বৈঠকে বসেছেন তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ১১টায় এ বৈঠক শুরু হয়। খবর আনাদোলুর।

বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য তুরস্কে পৌঁছেছেন। 

এর আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বুধবার তুরস্কে পৌঁছান।

তুরস্কের পরররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসগ্লুর আমন্ত্রণে কুলেবা ও ল্যাভরভ বৈঠকে বসলেন।

রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে এটিই হতে যাচ্ছে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে প্রথম বৈঠক।

যদিও এ বৈঠক থেকে খুব বেশি প্রত্যাশা নেই বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠকে ল্যাভরভকে ‘অপপ্রচার চালানোর জন্য নয় বরং সরল বিশ্বাসে’ অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 

যদিও এ বৈঠক নিয়ে বেশ আশাবাদী তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান।

তিনি আশা করছেন, রাশিয়া-ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে হতে যাওয়া বৈঠক ‘স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দরজা খুলে দেবে’।

২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চলে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

কে কী চায়

ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে রাশিয়া।

তাদের দাবি, সংবিধান সংশোধন করে ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি এবং কোনো ধরনের সামরিক জোটে যোগ না দেওয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করবে ইউক্রেন। 

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন সংবিধান সংশোধন করে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করে।

অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চায়। একই সঙ্গে দেশের মাটি (ক্রিমিয়া ও দোনবাস) থেকে সম্পূর্ণ রুশ সেনা প্রত্যাহার চায় ইউক্রেন।

এ লক্ষ্যে প্রথম দফায় দুই দেশের প্রতিনিধিরা ২৮ ফেব্রুয়ারি বেলারুশের গোমেলে বৈঠকে বসেন।  সেখানে তারা পাঁচ ঘণ্টার মতো বৈঠক করেন। পরে ৩ মার্চ দ্বিতীয় দফা ও ৭ মার্চ তৃতীয় দফায় বেলারুশের ব্রেস্ট অঞ্চলে বৈঠকে বসেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। 

বৈঠকের পর রাশিয়া বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার স্বার্থে ৭ মার্চ কিয়েভ, মারিওপোল, খারকিভ ও সুমিতে ‘সাময়িক’ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে।

জাতিসংঘ বলছে, ২৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ যুদ্ধে ইউক্রেনে অন্তত ৫১৬ বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ৯০৮ জন আহত হয়েছেন।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা বলছে, রাশিয়ার হামলা শুরুর পর ইউক্রেন থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্রায় ২১ লাখের বেশি মানুষ পালিয়ে গেছেন।